যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার ইন্টারভিউয়ের দীর্ঘ অপেক্ষা কমাতে নতুন একটি দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় যোগ্য বি-শ্রেণির ভিসা আবেদনকারীরা নিয়মিত আবেদন ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৭৫০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পাবেন। তবে আপাতত এই সুবিধা সব দেশে চালু হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার ইন্টারভিউয়ের দীর্ঘ অপেক্ষা কমাতে নতুন একটি দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় যোগ্য বি-শ্রেণির ভিসা আবেদনকারীরা নিয়মিত আবেদন ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৭৫০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পাবেন। তবে আপাতত এই সুবিধা সব দেশে চালু হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২২ জুলাই প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা এক্সপেডাইটেড অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাইলট প্রোগ্রাম ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকবে। প্রথম দেশ হিসেবে মেক্সিকোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও সব কনস্যুলেটে ২১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। পরবর্তীতে আরও দেশ ও মার্কিন মিশন এই কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারে।
এই সুবিধা মূলত বি-১, বি-২ এবং বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য। বি-১ ভিসা ব্যবসায়িক সফর, সভা বা সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য এবং বি-২ ভিসা পর্যটন, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা ব্যক্তিগত সফরের জন্য ব্যবহৃত হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রথমে প্রচলিত নিয়মে ১৮৫ ডলারের ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করে একটি সাধারণ ইন্টারভিউয়ের তারিখ নিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশে এই কর্মসূচি চালু থাকলে, আবেদনকারী যোগ্য হলে এবং দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লট খালি থাকলে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে নতুন ইন্টারভিউয়ের সময় নির্বাচন করা যাবে।
অর্থাৎ, দ্রুত ইন্টারভিউ সুবিধা নিতে একজন আবেদনকারীকে মোট ৯৩৫ ডলার (১৮৫ ডলার নিয়মিত আবেদন ফি এবং ৭৫০ ডলার অতিরিক্ত ফাস্ট ট্র্যাক ফি) পরিশোধ করতে হবে।
তবে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সংখ্যা সীমিত থাকবে। প্রতিটি দূতাবাস ও কনস্যুলেট প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক স্লট বরাদ্দ করবে। স্লট খালি থাকলেই কেবল যোগ্য আবেদনকারীরা এই সুবিধা দেখতে পারবেন।
দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্বাচন করার পর ১০ মিনিটের মধ্যে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করতে হবে। একবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হলে সেটি পরিবর্তন করা যাবে না। নির্ধারিত ইন্টারভিউতে উপস্থিত না হলে বা পরে বাতিল করলে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে আবার একই সুবিধা নিতে চাইলে নতুন করে ৭৫০ ডলার পরিশোধ করতে হবে। গ্রুপ বা পরিবারের একাধিক সদস্য একসঙ্গে আবেদন করলে প্রত্যেককে আলাদাভাবে এই ফি দিতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে, অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করলেও ভিসা অনুমোদনের কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে না। এই অর্থ শুধুমাত্র দ্রুত ইন্টারভিউয়ের সুযোগের জন্য। ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে সব আবেদনকারীকে একই ধরনের যোগ্যতা, নিরাপত্তা যাচাই এবং কনস্যুলার কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই যেতে হবে।
এছাড়া কোনো আবেদন অতিরিক্ত প্রশাসনিক যাচাইয়ের আওতায় গেলে এই ফি পরিশোধের কারণে সেই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই।
যাদের জরুরি ইন্টারভিউয়ের আবেদন আগে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তারা শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে যারা ইন্টারভিউ মওকুফের মাধ্যমে ভিসা নবায়নের যোগ্য, তারা এই অতিরিক্ত ফি দিয়ে আবেদন দ্রুত করার সুযোগ পাবেন না।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত অংশগ্রহণকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ফলে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে বি-১ বা বি-২ ভিসা আবেদনকারীরা এখনই এই ৭৫০ ডলারের ফাস্ট ট্র্যাক সুবিধা নিতে পারবেন না।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চলাকালে আরও দেশ এতে যুক্ত হতে পারে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এই কর্মসূচির আওতায় এলে এবং আবেদনকারী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে তার অনলাইন ভিসা অ্যাকাউন্টে দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্টের বিকল্প দেখা যেতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে এমন আবেদনকারীদের জন্য ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কমানোই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। তবে নিরাপত্তা যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং ভিসা অনুমোদনের সব নিয়ম আগের মতোই বহাল থাকবে।
অর্থাৎ, এই নতুন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে দ্রুত ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পাওয়া যাবে, কিন্তু ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা কেনা যাবে না।