সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৪:৫১ অপরাহ্ন, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ইন্দোনেশিয়ায় বিপাকে ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী

ইন্দোনেশিয়ায় হঠাৎ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব পড়েছে আকাশপথেও। আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। আটকা পড়েছেন ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী। ছাইয়ের ঘনত্বের কারণে কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের অনেকেই দীর্ঘ […]

আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ইন্দোনেশিয়ায় বিপাকে ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইন্দোনেশিয়ায় হঠাৎ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব পড়েছে আকাশপথেও। আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। আটকা পড়েছেন ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী।

ছাইয়ের ঘনত্বের কারণে কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন। কেউ টিকিটের টাকা ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ ফ্লাইট কখন চালু হবে সেই অপেক্ষায় রয়েছেন।

জাকার্তার বিমানবন্দরেও বন্ধ ফ্লাইট

শুক্রবার গভীর রাতে জাকার্তা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউয়ে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এরপর আগ্নেয় ছাই ও লাভা ছড়িয়ে পড়তে থাকে আশপাশের এলাকায়।

এর প্রভাব পড়ে জাকার্তা ও লামপুং প্রদেশের দিকে। জাকার্তার প্রধান সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় আবার চালুর কথা থাকলেও আকাশে ছাই থাকার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সোমবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের পর ফ্লাইট চলাচল শুরু হতে পারে। একই সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হালিম পেরদানাকুসুমা বিমানবন্দরও।

বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা

ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে সোমবার বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে দেখা যায়। অনেকেই নিজেদের ফ্লাইটের নতুন সময় জানার জন্য কাউন্টারে অপেক্ষা করেন।

আবার কেউ কেউ টিকিটের অর্থ ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা

ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, আনাক ক্রাকাতাউয়ে আগামী দিনগুলোতেও নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত হতে পারে। ফলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে আগ্নেয়গিরিটিকে।

দেশটির আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজির তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয় ছাই জাভার দিকে প্রায় ৬ হাজার মিটার এবং সুমাত্রার দিকে প্রায় ১৫ হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উঠে গেছে।

এ কারণে বিমান চলাচলের জন্য পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগ্নেয় ছাই বিমানের ইঞ্জিন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে।

আগ্নেয়গিরির আশপাশে প্রবেশ নিষিদ্ধ

আনাক ক্রাকাতাউয়ের সক্রিয় জ্বালামুখের তিন কিলোমিটারের মধ্যে মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দা প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিষিদ্ধ এলাকাটি এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত অগ্ন্যুৎপাতকে কেন্দ্র করে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

২০১৮ সালের সেই ভয়াবহ সুনামির স্মৃতি

আনাক ক্রাকাতাউয়ের নাম ইন্দোনেশিয়ার মানুষের কাছে নতুন করে আতঙ্কের কারণ নয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আগ্নেয়গিরিটির একটি অংশ ধসে পড়ার পর ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে আশপাশের উপকূলে।

সেই ঘটনায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। আহত ও বাস্তুচ্যুত হন আরও হাজারো মানুষ। ফলে এবারও আগ্নেয়গিরির গতিবিধির ওপর সতর্ক নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।

‘রিং অব ফায়ার’-এ ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্প ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অবস্থান এই বিস্তৃত ভূ-অঞ্চলেই।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের এমন ঝুঁকির মধ্যেই আনাক ক্রাকাতাউয়ের নতুন অগ্ন্যুৎপাত দেশটির বিমান যোগাযোগে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হাজারো ফ্লাইটের যাত্রীকে অনিশ্চয়তার মধ্যেই অপেক্ষা করতে হবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ