যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) ফেডারেল আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে শরণার্থী ও অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আবেদন পুনরায় প্রক্রিয়াকরণ শুরু করেছে। আদালতের রায়ের পর স্থগিত থাকা বহু আবেদন পুনরায় সক্রিয় করা হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। গত ১২ জুন প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএসসিআইএস জানায়, রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল আদালতের দেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংস্থাটি একমত না হলেও চূড়ান্ত […]
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) ফেডারেল আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে শরণার্থী ও অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আবেদন পুনরায় প্রক্রিয়াকরণ শুরু করেছে। আদালতের রায়ের পর স্থগিত থাকা বহু আবেদন পুনরায় সক্রিয় করা হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
গত ১২ জুন প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএসসিআইএস জানায়, রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল আদালতের দেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংস্থাটি একমত না হলেও চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা মেনে চলবে।
সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের চূড়ান্ত আদেশ জারির পর থেকেই ইউএসসিআইএস এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বিভিন্ন অভিবাসন সুবিধার আবেদন আবারও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে শুরু করেছে।
গত ৫ জুন রোড আইল্যান্ডের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এক রায়ে ইউএসসিআইএসের চারটি নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এসব নীতির আওতায় ৩৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট, আশ্রয় আবেদন, নাগরিকত্ব এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত বা বিলম্বিত করা হয়েছিল। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে আবেদন আটকে রাখা প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী এবং যথাযথ আইনি ভিত্তি ছাড়াই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এই নীতিগুলো ২০২৫ সালের শেষ দিকে চালু করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন তখন কিছু দেশকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের নামে আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে হাজার হাজার আবেদনকারী, বিশেষ করে আফগান শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং বিশেষ অভিবাসী ভিসা (SIV) কর্মসূচির আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।
আদালতের নির্দেশে এখন ইউএসসিআইএসকে পূর্বের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে হবে এবং শুধুমাত্র আবেদনকারীর জন্মস্থান বা নাগরিকত্বের ভিত্তিতে কোনো আবেদন স্থগিত রাখা যাবে না। বিচারক ম্যাককনেল তার রায়ে বলেন, বৈধভাবে আবেদন করা ব্যক্তিদের জাতীয়তার কারণে আইনি অনিশ্চয়তায় ফেলে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তারা আবেদনগুলো পুনরায় পর্যালোচনা শুরু করেছে। তবে সরকার এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে বিষয়টি উচ্চ আদালতে নতুন করে আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে আফগান শরণার্থী, মানবিক সুরক্ষা প্রত্যাশী এবং দীর্ঘদিন ধরে আবেদন আটকে থাকা হাজারো অভিবাসী কিছুটা স্বস্তি পাবেন। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের প্রতি সমান আচরণ ও আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে।