যুক্তরাষ্ট্রে চোখ পরীক্ষা, চশমা কিংবা অস্ত্রোপচারের খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যাদের স্বাস্থ্যবিমা নেই অথবা বিমায় প্রয়োজনীয় আই কেয়ার কভার করা হয় না, তাদের অনেকেই খরচের কারণে চিকিৎসা পিছিয়ে দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, কম আয়ের ও যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে […]
যুক্তরাষ্ট্রে চোখ পরীক্ষা, চশমা কিংবা অস্ত্রোপচারের খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যাদের স্বাস্থ্যবিমা নেই অথবা বিমায় প্রয়োজনীয় আই কেয়ার কভার করা হয় না, তাদের অনেকেই খরচের কারণে চিকিৎসা পিছিয়ে দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, কম আয়ের ও যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে বা কম খরচে চোখ পরীক্ষা, চশমা এবং কিছু ক্ষেত্রে চোখের অস্ত্রোপচারের সুযোগ রয়েছে।
তবে ‘৫ হাজার ডলারের যেকোনো চোখের অপারেশন সবার জন্য বিনামূল্যে’—এমন কোনো একক জাতীয় কর্মসূচি নেই। কে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন, কী ধরনের সেবা পাওয়া যাবে এবং কোথায় পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, রোগীর আয়, ইন্স্যুরেন্স এবং স্থানীয় সেবার প্রাপ্যতার ওপর।
লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্থানীয় লায়ন্স ক্লাব আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে চোখের চিকিৎসার খরচে সহায়তা করে। কোনো কোনো এলাকায় চশমার ব্যবস্থাও করা হয়।
তবে প্রতিটি লায়ন্স ক্লাব একই ধরনের সেবা দেয় না। তাই নিজের এলাকার ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যেতে পারে, তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অপথালমোলজির আইকেয়ার আমেরিকা কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিরা পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসার সুযোগ পেতে পারেন।
ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ব্যক্তিরা এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন। বয়স, চোখের রোগের ঝুঁকি এবং অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে সেবা নির্ধারণ করা হয়।
কম আয়ের এবং চোখ পরীক্ষা বা প্রেসক্রিপশন চশমার জন্য ইন্স্যুরেন্স কভারেজ না থাকা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ভিএসপি আইজ অব হোপ গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে প্রেসক্রিপশন চশমা বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে ২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ব্যাপক চাহিদার কারণে আইজ অব হোপের গিফট সার্টিফিকেট নতুন করে বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তাই এই সুবিধা নিতে আগ্রহীদের আগে কর্মসূচিটির সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা উচিত।
চোখের অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করা সম্ভব না হলে কিছু বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে ক্যাটারাক্ট বা ছানি অপারেশনের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট এ ধরনের সহায়তার জন্য মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ এবং অপারেশন সাইটের কথা উল্লেখ করেছে।
মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ এমন ব্যক্তিদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করে, যাদের ছানির কারণে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং যাদের মেডিকেয়ার, মেডিকেইড বা অন্য কোনো ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের খরচ কভার করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে রোগীর নিজের পক্ষেও অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করার সামর্থ্য থাকতে হয় না।
অপারেশন সাইটও আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত করে। বর্তমান যোগ্যতার মধ্যে সাধারণত ফেডারেল পভার্টি লেভেলের ২০০ শতাংশ বা তার নিচে আয়, চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় ক্যাটারাক্ট সার্জারি এবং অস্ত্রোপচারের খরচ কভার করে না—এমন ইন্স্যুরেন্স বা ইন্স্যুরেন্স না থাকার বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। এই কর্মসূচিতে মার্কিন নাগরিকত্ব বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির শর্তও রয়েছে।
ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের পরামর্শ অনুযায়ী, কাছাকাছি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চোখের ক্লিনিক রয়েছে কি না, তা খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। কিছু কেন্দ্র বিনামূল্যে অথবা রোগীর আয়ের ভিত্তিতে কম খরচে সেবা দিয়ে থাকে।
এ ছাড়া যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে অপটোমেট্রি অথবা অপথালমোলজি প্রোগ্রাম রয়েছে, সেখানেও তুলনামূলক কম খরচে চোখের চিকিৎসা পাওয়া যেতে পারে। সাধারণত প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থী বা চিকিৎসকেরা অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এসব সেবা দিয়ে থাকেন।
শিশুদের চোখের চিকিৎসায় মেডিকেইড এবং চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম বা CHIP গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যোগ্য পরিবারের শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ভিশন কেয়ারের খরচ এসব কর্মসূচির আওতায় কভার হতে পারে। তবে রাজ্যভেদে যোগ্যতার নিয়ম আলাদা।
৬ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের জন্য ইনফ্যান্টসি কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের প্রাথমিক মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যে ‘অল চিলড্রেন সি’ কর্মসূচির মাধ্যমে চোখের সমস্যার লক্ষণ থাকা শিশুদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়স হলেই মেডিকেয়ার নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও চশমার সব খরচ বহন করে—এমন ধারণা সঠিক নয়। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, অরিজিনাল মেডিকেয়ার সাধারণ রুটিন আই এক্সাম বা অধিকাংশ চশমার খরচ কভার করে না।
তবে ডায়াবেটিস, বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, গ্লুকোমার উচ্চ ঝুঁকি এবং ক্যাটারাক্টের মতো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত অবস্থায় কিছু আই কেয়ার কভার হতে পারে।
চোখ পরীক্ষা বা চশমা প্রয়োজন হলে প্রথমে নিজের এলাকার কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, লায়ন্স ক্লাব এবং স্বল্প খরচের আই ক্লিনিক সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। ছানি অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে কিন্তু খরচ বহন করা সম্ভব নয়—এমন রোগীরা মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ বা অপারেশন সাইটের যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব কর্মসূচিতে সেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা সবার জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হয় না। আয়, ইন্স্যুরেন্স, বয়স, রোগের ধরন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন বা রেসিডেন্সি স্ট্যাটাসের ওপর যোগ্যতা নির্ভর করতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে সেবার প্রাপ্যতাও ভিন্ন হতে পারে।
তাই চোখের চিকিৎসা প্রয়োজন হলে শুধু খরচের কথা ভেবে চিকিৎসা পিছিয়ে না দিয়ে নিজের এলাকায় কোন সরকারি, অলাভজনক বা কম খরচের কর্মসূচি পাওয়া যাচ্ছে, তা আগে যাচাই করা সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।