স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, আগামী ২৫০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানের মতো একটি অখণ্ড বা একক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকবে না। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে উঠে এসেছে, দেশটির রাজনৈতিক মেরুকরণ, […]
ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, আগামী ২৫০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানের মতো একটি অখণ্ড বা একক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকবে না।
রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে উঠে এসেছে, দেশটির রাজনৈতিক মেরুকরণ, সামাজিক বিভাজন এবং ক্রমবর্ধমান আদর্শিক সংঘাত নাগরিকদের মধ্যে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। স্বাধীনতার আড়াই শতক পূর্তির উৎসবের মধ্যেও তাই দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে।
একই সময়ে পরিচালিত আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গুরুতর সংকটের মুখে রয়েছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈরিতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সমঝোতার অভাব গণতন্ত্রকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক নাগরিকই দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে মতপার্থক্য এখন শুধু রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক নানা ইস্যুতেও সেই বিভাজন আরও গভীর হয়েছে।
তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে এই উদ্বেগের মধ্যেও স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এবারও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন উৎসব, পারিবারিক আয়োজন এবং ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
তবে স্বাধীনতা দিবসের অর্থ অনেকের কাছেই আগের তুলনায় কিছুটা বদলে গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা এখন ৪ জুলাইকে মূলত দেশাত্মবোধক কর্মসূচির চেয়ে কর্মব্যস্ত জীবন থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বিশ্রামের একটি উপলক্ষ হিসেবেই বেশি দেখেন।
দেশজুড়ে বারবিকিউ পার্টি, পারিবারিক পুনর্মিলনী, পিকনিক এবং রাতের আতশবাজির আয়োজন এখনও স্বাধীনতা দিবসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। অনেকের মতে, রাজনৈতিক বিভাজন যতই তীব্র হোক না কেন, এই দিনটি এখনও পরিবার ও বন্ধুদের একত্র হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র যেন এক বৈপরীত্যের প্রতিচ্ছবি। একদিকে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ, অন্যদিকে একই দেশের মানুষ স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং পারিবারিক বন্ধনকে আগের মতোই ধরে রেখেছেন।
জরিপের ফলাফল বলছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মার্কিন সমাজে এখনও এমন কিছু সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে, যা রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে একত্রিত করে। স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে এসে সেই বাস্তবতাই নতুন করে সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন কেবল অর্থনীতি বা বৈশ্বিক নেতৃত্ব ধরে রাখা নয়; বরং নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংহতি পুনর্গঠন করা। কারণ, নাগরিকদের একটি বড় অংশ যদি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়েই আস্থা হারাতে শুরু করেন, তবে সেটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
সূত্র: রয়টার্স ও ইপসোস