যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিচার্ডসনে একটি ব্যাপটিস্ট গির্জা কিনেছে মুসলিম সংগঠন সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি (SAFA)। আইনি জটিলতার অবসানের পর প্রতিষ্ঠানটি গির্জার ভবনটিকে ইসলামিক স্কুল, মাদরাসা, সেমিনারি এবং মসজিদে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। টেক্সাসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডালাস এক্সপ্রেস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি একটি কে-১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাদের লক্ষ্য হলো প্রচলিত শিক্ষাক্রমের পাশাপাশি কোরআন ও […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিচার্ডসনে একটি ব্যাপটিস্ট গির্জা কিনেছে মুসলিম সংগঠন সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি (SAFA)। আইনি জটিলতার অবসানের পর প্রতিষ্ঠানটি গির্জার ভবনটিকে ইসলামিক স্কুল, মাদরাসা, সেমিনারি এবং মসজিদে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
টেক্সাসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডালাস এক্সপ্রেস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি একটি কে-১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাদের লক্ষ্য হলো প্রচলিত শিক্ষাক্রমের পাশাপাশি কোরআন ও হাদিসভিত্তিক ইসলামিক শিক্ষা সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা।
প্রতিষ্ঠানটি সম্পত্তিটি কিনেছে কোরিয়ান ওয়ার্ল্ড মিশন ব্যাপটিস্ট চার্চ–এর কাছ থেকে। ১৯৯২ সাল থেকে চার্চটি এই ভবনের মালিক ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটি খ্রিষ্টান ধর্মীয় কার্যক্রম এবং ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমির পাশাপাশি অথেনটিক ইলম মিশন (AIM) একই প্রাঙ্গণে দাওয়াহ একাডেমি অ্যান্ড সেমিনারি প্রতিষ্ঠা করবে। আয়োজকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের আবাসিক দাওয়াহ সেমিনারিগুলোর একটি হবে। এখানে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কোর্স পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এক বিবৃতিতে অথেনটিক ইলম মিশন জানায়, তাদের উদ্দেশ্য এমন নেতৃত্ব তৈরি করা, যারা ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
সম্পত্তি হস্তান্তরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রতিষ্ঠানটির একজন বক্তা বলেন, যে ভবনটি একসময় খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের কেন্দ্র ছিল, সেটিই এখন মুসলিমদের শিক্ষা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
এই সম্পত্তি ক্রয়কে ঘিরে কয়েক মাস আগে আইনি বিরোধও সৃষ্টি হয়েছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রায় ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারে ভবনটি কেনার জন্য দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয় এবং সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি ৩৮ হাজার ডলার অগ্রিম প্রদান করে।
পরবর্তীতে চার্চ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তাদের পাস্টর চুক্তির প্রকৃতি ভুল বুঝে এতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তার ধারণা ছিল, এটি সম্পত্তি বিক্রির অনুমতি নয়, বরং বিক্রির তালিকাভুক্তির একটি নথি।
এরপর সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি আদালতে চুক্তি বাস্তবায়নের আবেদন জানিয়ে এবং ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করে। পরে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুই পক্ষ আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছায় এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের পথ উন্মুক্ত হয়।
দ্য ডালাস এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন টেক্সাসে মুসলিম জনসংখ্যা ও ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
জনসংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ মুসলিম হলেও সংখ্যার বিচারে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্য। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইসলাম দ্রুত বর্ধনশীল ধর্মগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ডালাস এক্সপ্রেস