সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১:১২ অপরাহ্ন, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধে তথ্য ফাঁস, মরিয়া হয়ে ‘ঘরের শত্রু’ খুঁজছেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য ফাঁসের ঘটনা নিয়ে কঠোর তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে আগস্টে প্রায় ৫০ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আনাদোলুর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের উৎস খুঁজতে এই পরীক্ষা চালানো হয়। তদন্তের আওতায় প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ […]

ইরান যুদ্ধে তথ্য ফাঁস, মরিয়া হয়ে ‘ঘরের শত্রু’ খুঁজছেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য ফাঁসের ঘটনা নিয়ে কঠোর তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে আগস্টে প্রায় ৫০ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

আনাদোলুর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের উৎস খুঁজতে এই পরীক্ষা চালানো হয়। তদন্তের আওতায় প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেওয়া জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট স্টাফের কিছু কর্মকর্তাকেও রাখা হয়েছিল।

মূলত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মজুত নিয়ে প্রকাশিত তথ্য কীভাবে গণমাধ্যমে পৌঁছেছে, তা খুঁজে বের করতেই তদন্ত চলছে।

সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তদন্ত

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এই তদন্তে এফবিআই সরাসরি যুক্ত ছিল না। মার্কিন সামরিক বাহিনী নিজেদের অভ্যন্তরীণ তদন্তকারীদের মাধ্যমেই পলিগ্রাফ পরীক্ষা চালিয়েছে।

তবে সব জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়নি। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও এই তদন্তের অংশ ছিলেন না।

সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো কর্মকর্তা গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁসের বিষয়ে পলিগ্রাফ পরীক্ষায় ব্যর্থ হননি। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, সংশ্লিষ্ট কেউ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছেন কি না। কারণ, অস্ত্রের মজুতসংক্রান্ত এসব তথ্যের প্রবেশাধিকার ছিল খুবই সীমিত।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, তারা অভ্যন্তরীণ কর্মী বা তদন্তের নির্দিষ্ট বিষয়ে মন্তব্য করেন না। তবে শ্রেণিবদ্ধ বা গোপনীয় তথ্য ফাঁসের বিষয়টি পেন্টাগন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত করা হয়।

তথ্য ফাঁস নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।

সামরিক অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর সরাসরি নাকচ করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে এখনো ‘বিপুল পরিমাণ’ অস্ত্র রয়েছে। তিনি এসব তথ্য ফাঁসকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বক্তব্য’ ও ‘ভুয়া খবর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

একই সঙ্গে তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

আগেও ফাঁস হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পলিগ্রাফ পরীক্ষা শুরুর আগেও মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তর থেকে বেশ কিছু অননুমোদিত তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অর্ডারস বুকের একটি অংশ ফাঁস হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

ফাঁস হওয়া ওই নথিতে ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চার তারকা পদমর্যাদার ছয়জন সামরিক নেতার ভিন্নমতের বিষয় উঠে আসে। তারা সতর্ক করেছিলেন, চলমান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র পারনেল এসব তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ‘অপরাধ’ এবং সামরিক বাহিনীর প্রতি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বড় একটি অংশ সঠিক নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ইরান যুদ্ধ ঘিরে এমন এক সময়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে তথ্য ফাঁসের উৎস খোঁজার তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে, যখন সামরিক সক্ষমতা, অস্ত্রের মজুত ও যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ