নিউইয়র্ক সিটির উবার–লিফটসহ ফর-হায়ার ভেহিকলের চালকেরা দীর্ঘদিন ধরেই পার্কিং ও বাথরুম ব্যবহারে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এবার সেই সমস্যার সমাধানে সিটি কাউন্সিলে উঠেছে নতুন প্রস্তাবিত আইন। প্রস্তাব অনুযায়ী, চালকেরা দিনে চারবার পর্যন্ত অব্যবহৃত মিটারড স্পেসে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টা গাড়ি দাঁড় করাতে পারবেন, যাতে তাঁরা বাথরুম ব্যবহার, খাবার খাওয়া, নামাজ পড়া বা শরীর স্ট্রেচ করার মতো […]
নিউইয়র্ক সিটির উবার–লিফটসহ ফর-হায়ার ভেহিকলের চালকেরা দীর্ঘদিন ধরেই পার্কিং ও বাথরুম ব্যবহারে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এবার সেই সমস্যার সমাধানে সিটি কাউন্সিলে উঠেছে নতুন প্রস্তাবিত আইন। প্রস্তাব অনুযায়ী, চালকেরা দিনে চারবার পর্যন্ত অব্যবহৃত মিটারড স্পেসে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টা গাড়ি দাঁড় করাতে পারবেন, যাতে তাঁরা বাথরুম ব্যবহার, খাবার খাওয়া, নামাজ পড়া বা শরীর স্ট্রেচ করার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারেন।
নিউইয়র্ক সিটির ট্যাক্সি ও লিমুজিন কমিশনের (টিএলসি) হিসাবে, প্রতিদিন প্রায় ৮২ হাজার চালক অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ার সেবায় কাজ করেন। অথচ তাঁদের জন্য নির্ধারিত রিলিফ স্ট্যান্ড মাত্র ৭০টি, তাও মূলত ম্যানহাটনে এবং ঐতিহ্যবাহী হলুদ ট্যাক্সিচালকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হয়। ফলে অধিকাংশ চালক বাথরুমে যেতে বা একটু বিশ্রাম নিতে বাধ্য হন বেআইনি পার্কিংয়ে, যার পরিণতিতে নিয়মিত জরিমানা।
চালকদের সংগঠন ইন্ডিপেনডেন্ট ড্রাইভারস গিল্ডের সভাপতি ব্রেন্ডান সেক্সটন বলেন, “আমরা রাস্তা ভরে দিতে চাই না। শুধু চাই, চালকেরা প্রয়োজনে ৩০ মিনিটের জন্য থামতে পারেন।” সিটি হলে সোমবার চালকদের এক সমাবেশে এই দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
বিলটির প্রস্তাবক কাউন্সিল সদস্য জাস্টিন ব্র্যানান বলেন, “উবার বা লিফট কেবল প্রযুক্তি নয়—এগুলোর পেছনে রয়েছে মানুষ। তাঁদের মৌলিক চাহিদা মেটানো এখন সময়ের দাবি।”
চালকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভারসের চিফ মেডিকেল অফিসার পল টালাজ বলেন, দীর্ঘ সময় বাথরুমে যেতে না পারায় অনেক চালক মূত্রনালি সংক্রমণ, ডিহাইড্রেশন বা কিডনির পাথরে ভুগছেন।
এরই মধ্যে এপ্রিল মাসে সিটি কাউন্সিল একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যাতে নগরের পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে। বর্তমানে ৮৬ লাখ বাসিন্দার জন্য রয়েছে মাত্র ১ হাজার ১০০টি পাবলিক টয়লেট।
অ্যাপভিত্তিক চালক অজয় বিশ্বকর্মা বলেন, “এটি শুধু আরামের প্রশ্ন নয়, এটি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্ন। যত দ্রুত সম্ভব আরও সুবিধা চালু করা প্রয়োজন।”
নতুন আইনটি কার্যকর হলে চালকদের কাজের পরিবেশ কিছুটা হলেও মানবিক ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।