সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১২:৩৯ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

কংগ্রেসের অনুমোদন না পেলে ইরানে সামরিক অভিযান অনিশ্চিত

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান আবারও রাজনৈতিক ও আইনি চাপের মুখে পড়েছে। চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আগামী ১ মে’র মধ্যে তাঁকে এমন এক অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে, যা ইরান-সংকটের ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে।যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার […]

কংগ্রেসের অনুমোদন না পেলে ইরানে সামরিক অভিযান অনিশ্চিত

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান আবারও রাজনৈতিক ও আইনি চাপের মুখে পড়েছে। চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আগামী ১ মে’র মধ্যে তাঁকে এমন এক অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে, যা ইরান-সংকটের ভবিষ্যৎ গতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’ অনুযায়ী, কোনো সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালিয়ে যেতে হলে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। সেই হিসাবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার আগে আইনপ্রণেতাদের সম্মতি না মিললে মার্কিন বাহিনীকে অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।
এই অনুমোদন পেতে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট—উভয় কক্ষেই সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় একটি যৌথ প্রস্তাব পাস করতে হয়। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন সে ধরনের কোনো সম্মতি পায়নি। ফলে ইরানবিষয়ক সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
কলোরাডো ল’ স্কুলের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মরিয়ম জামশিদি বলেন, প্রেসিডেন্ট চাইলে ৬০ দিনের সময়সীমা আরও ৩০ দিন বাড়াতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে কংগ্রেসকে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, ‘অনিবার্য সামরিক প্রয়োজন’ রয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যায়, ৯০ দিনের সীমা অতিক্রম করলে নতুন অনুমোদন ছাড়া সেনা মোতায়েন বা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা যায় না।
তবে এই আইন বাস্তবে প্রয়োগ করা সহজ নয়। অতীতে কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই আইনের কিছু ধারা অসাংবিধানিক বলে দাবি করে তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে কংগ্রেসের পক্ষে প্রেসিডেন্টকে বাধ্য করার স্পষ্ট ও কার্যকর আইনি পথও সীমিত হয়ে আছে।
এদিকে ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরোধিতায় আবারও সরব হয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। চলতি সপ্তাহে সিনেটে যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত প্রস্তাবে নতুন করে ভোটাভুটির উদ্যোগ নিচ্ছে দলটি। তাদের লক্ষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যেন নির্বাহী ক্ষমতা এককভাবে সিদ্ধান্ত না নিতে পারে।
সিনেটে সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ৬০ দিনের বিপজ্জনক যুদ্ধ পরিস্থিতির পরও রিপাবলিকানরা কি ট্রাম্পকে সমর্থন জানাবে? তাঁর এই মন্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরান-সংক্রান্ত যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের দায় ও সিদ্ধান্তের ভার শুধু হোয়াইট হাউসের ওপর ছেড়ে দিতে রাজি নয় বিরোধী শিবির।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। সেই সাংবিধানিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা চাইছে, ইরানে অভিযান চালাতে হলে ট্রাম্প প্রশাসনকে আইনপ্রণেতাদের সম্মতি নিতে বাধ্য করা হোক। ফলে কূটনীতি, আইন ও সামরিক কৌশল—সব মিলিয়ে ইরান প্রশ্নে ওয়াশিংটনের সামনে এখন জটিল এক পরীক্ষার সময়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ