সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
৫:২৯ পিএম, ১১ জুলাই ২০২৬

কয়েক লাখ অভিবাসী কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচির (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) আওতায় কর্মরত কয়েক লাখ বিদেশি নাগরিকের চাকরি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভিন্ন নিয়োগকর্তার কাছে পাঠিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই টিপিএস কর্মসূচির পরিধি সীমিত করার উদ্যোগ নিয়ে আসছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও […]

কয়েক লাখ অভিবাসী কর্মীকে ছাঁটাইয়ের নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচির (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) আওতায় কর্মরত কয়েক লাখ বিদেশি নাগরিকের চাকরি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভিন্ন নিয়োগকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই টিপিএস কর্মসূচির পরিধি সীমিত করার উদ্যোগ নিয়ে আসছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় থাকা হাইতির নাগরিকদের কাজের অনুমতির মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হবে।

এছাড়া ইথিওপিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের ক্ষেত্রে কাজের অনুমতির বর্তমান মেয়াদ ১৭ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য মানবিক সুরক্ষা সুবিধা বাতিলের ক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে বহাল রাখে। ওই রায়ের পরই নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাকরি হারানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।

বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার হাইতির এবং ৬ হাজার ১০০ সিরিয়ার নাগরিক টিপিএস কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। যুদ্ধ, গৃহসংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য সংকটের কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা বিদেশিদের মানবিক বিবেচনায় এই অস্থায়ী সুরক্ষা দেওয়া হয়।

অভিবাসনবিষয়ক সংগঠন ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ইথিওপিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও ইয়েমেনের আরও প্রায় ২০ হাজার নাগরিকও এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।

ইউএসসিআইএস সম্প্রতি কয়েক দফায় কাজের অনুমতির মেয়াদ পরিবর্তন করেছে। প্রথমে মেয়াদ ১ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও পরে তা ১০ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ শুক্রবার দেশভেদে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হয়েছে।

তবে নতুন নির্দেশনা জারির আগেই অনেক নিয়োগকর্তা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর হতে আরও সময় লাগতে পারে—এমন ধারণায় তাদের কর্মরত রেখেছিলেন।

আমেরিকান বিজনেস ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের আইনি উপদেষ্টা জ্যাকব মন্টি বলেন, কাজের অনুমতির মেয়াদ বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় অনেক নিয়োগকর্তা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। বৈধ অনুমতি ছাড়া কাউকে চাকরিতে রাখলে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান আগেভাগেই কর্মীদের ছাঁটাই করেছে।

তিনি আরও বলেন, টিপিএস কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল হয়নি। বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হলে নিয়োগকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কমতে পারত।

হাইতির হাজারো কর্মী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, বৃদ্ধাশ্রম, উৎপাদন, নির্মাণ ও পরিবহন খাতে কর্মরত। ফলে নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এসব খাতে শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাইতি ও সিরিয়ার পাশাপাশি বাকি পাঁচ দেশের টিপিএস সুবিধাও বাতিলের পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে চলমান মামলার কারণে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে প্রশাসনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

নিয়োগকর্তাদের পাঠানো সরকারি নোটিশেও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালতগুলোও উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবে বলে প্রশাসনের প্রত্যাশা।

অন্যদিকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের পক্ষে আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মানবিক সুরক্ষা সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে বৈষম্যের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে লেবাননের নাগরিকদের জন্য টিপিএস কর্মসূচির মেয়াদ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা বাতিলের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোতে পারে। এর মধ্যে আগামী সেপ্টেম্বরে এল সালভাদরের প্রায় দুই লাখ নাগরিকের টিপিএস সুবিধাও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

১৯৯০ সালে চালু হওয়া টিপিএস কর্মসূচির মাধ্যমে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য সংকটে আক্রান্ত দেশের নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আগের সরকারগুলো বারবার এই সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর ফলে অস্থায়ী কর্মসূচিটি কার্যত দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনের পথে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, টিপিএস সুবিধাভোগী অনেক দেশের পরিস্থিতি এখনো নিরাপদ নয়। তাই এই মুহূর্তে কর্মসূচির সুরক্ষা প্রত্যাহার করলে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ