দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা বন্দিদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যকই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৯৬০ জনকে এবার পোস্টাল ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা মোট বন্দির প্রায় ৭ শতাংশ। কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল […]
দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা বন্দিদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যকই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৯৬০ জনকে এবার পোস্টাল ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা মোট বন্দির প্রায় ৭ শতাংশ।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দেশের মোট ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ৭১টিতে বন্দিরা পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। বাকি চারটি কারাগার নতুন হওয়ায় সেখানে এখনো কোনো বন্দি নেই।
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে মোট ৬ হাজার ৩১৩ জন বন্দি পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৬০ জনের আবেদন অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৪৭ জনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট ভোট প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জান্নাত উল ফরহাদ আরও বলেন, পোস্টাল ভোটের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করতে হয় এবং বন্দিদের নিজ নিজ এলাকার প্রার্থীদের তালিকা ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এ কারণে পুরো প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় বেশি লাগে।
কারা অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে কারাগারগুলোতে থাকা বন্দিদের একটি বড় অংশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হয়েছেন। দেশের কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৩ হাজার হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্দির সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৮ হাজার। পরবর্তী ১৭ মাসে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৮৫ হাজারে পৌঁছেছে। কর্মকর্তারা জানান, এদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন। অনেক সাজাপ্রাপ্ত বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা এবং অনেকের অনাগ্রহের কারণে পোস্টাল ভোটের হার তুলনামূলকভাবে কম।
এছাড়া কোনো বন্দি পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধনের পর যদি জামিনে মুক্তি পান, তাহলে তিনি কারাগার থেকে আর ভোট দিতে পারেন না। একই সঙ্গে বাইরে গিয়েও তার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না, ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে তিনি বঞ্চিত হন।