সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
২:০০ অপরাহ্ন, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ তরুণদের রাজনৈতিক শক্তি: রয়টার্সের বিশ্লেষণ

বাংলাদেশে জেন–জি বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে। রাজপথের আন্দোলনের শক্তিকে ব্যালট বাক্সের ভোটে রূপান্তর করা যে কতটা কঠিন, এই ফলাফল তারই বাস্তব প্রতিফলন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ভোটারদের বড় […]

গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচনে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ তরুণদের রাজনৈতিক শক্তি: রয়টার্সের বিশ্লেষণ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বাংলাদেশে জেন–জি বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে। রাজপথের আন্দোলনের শক্তিকে ব্যালট বাক্সের ভোটে রূপান্তর করা যে কতটা কঠিন, এই ফলাফল তারই বাস্তব প্রতিফলন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ভোটারদের বড় অংশ দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কেই তাদের প্রধান পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দলটি অতীতে তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল এবং সর্বশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের পর এনসিপি রাজনৈতিক দলে রূপ নেয়। তবে এবারের নির্বাচনে একটি জোটের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করেও দলটি প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

জোট রাজনীতি ও সমর্থকদের আস্থার সংকট

এনসিপির অনেক সমর্থকের মতে, গত ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দলটির ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। শুরুতে এনসিপি প্রায় সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত জোটগত সমঝোতার কারণে মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

দলটির বক্তব্য ছিল, ঢাকায় আন্দোলনের এক অগ্রসৈনিক নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও শক্ত অবস্থান তৈরির প্রয়োজন থেকেই তারা এই জোটে যোগ দেয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এনসিপি পর্যাপ্ত জনসমর্থন গড়ে তুলতে পারেনি।

২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণদের মধ্যে যে আশা তৈরি হয়েছিল, এনসিপি তা বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি। জামায়াতের সঙ্গে জোট আমাদের মতো অনেক তরুণ ভোটারের কাছে আস্থাহীনতার জন্ম দিয়েছে।”

সীমিত সাফল্য, দীর্ঘ পথচলার প্রত্যয়

এনসিপি থেকে নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্যের একজন ৩২ বছর বয়সী আইনজীবী ও দলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি বলেন, দলটি আরও বেশি আসনে জয়লাভের প্রত্যাশা করেছিল এবং অনেক জায়গায় অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা মাত্র পথচলা শুরু করেছি। ২০২৪ সালের আন্দোলনে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা বাস্তবায়নে আমাদের দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের কারণেই কয়েকটি আসনে জয় সম্ভব হয়েছে। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদের মতে, এই জোট সিদ্ধান্ত তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশকে এনসিপি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

অধ্যাপক শাকিল বলেন, “অনেকেই এটিকে নতুন রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখেছেন। এতে তরুণ ভোট বিভক্ত হয়েছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি আরও সংগঠিত ও প্রস্তুত শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।”

স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে নতুন পরিকল্পনা

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, দলটি সংসদের বিরোধী শিবিরে থেকে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি পুনর্গঠন করবে এবং আগামী বছরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে দলের প্রধান নাহিদ ইসলামের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দলটি নিজেদের সংগঠিত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়নি। তহবিল সংকট, নারী ও সংখ্যালঘু অধিকার বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থানের অভাবও তাদের দুর্বল করেছে।

অধ্যাপক শাকিল আহমেদ মনে করেন, এনসিপি যদি নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলতে না পারে এবং অস্পষ্ট জোটনীতি থেকে বেরিয়ে না আসে, তবে তারা বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেওয়ার বদলে কেবল প্রতীকী আন্দোলনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর লড়াই ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন

তরুণদের মধ্যে আলোচিত পরাজিত প্রার্থীদের একজন ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক তাসনিম জারা। তিনি জোট গঠনের প্রতিবাদে দল ছেড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকায় নির্বাচন করেন। প্রায় ৪৪ হাজার ভোট পেলেও তিনি বিএনপি প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন।

তাসনিম জারা বলেন, “স্বচ্ছ ও ইতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের সমর্থন পাওয়া সম্ভব—এটা আমরা দেখাতে পেরেছি। তবে সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। টেকসই রাজনীতির জন্য শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি প্রয়োজন।” তিনি জানান, প্রাপ্ত ভোট তাকে আশাবাদী করেছে এবং তিনি রাজনীতি ছাড়বেন না। তাঁর ভাষায়, “আমাদের সেরা সময় এখনও সামনে।”

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ