সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১:৪৯ পিএম, ২২ মে ২০২৬

‘গলা চেপে শ্বাসরোধ অবস্থায় জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক—এপস্টিনকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সহকারীর

প্রয়াত যৌন অপরাধী ও মানবপাচারকারী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ। এবার তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী সারাহ কেলেন দাবি করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেওয়া সাক্ষ্যে কেলেন বলেন, এপস্টিন তাকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতেন এবং ধীরে ধীরে এমন […]

‘গলা চেপে শ্বাসরোধ অবস্থায় জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক—এপস্টিনকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সহকারীর

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

প্রয়াত যৌন অপরাধী ও মানবপাচারকারী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ। এবার তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী সারাহ কেলেন দাবি করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেওয়া সাক্ষ্যে কেলেন বলেন, এপস্টিন তাকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতেন এবং ধীরে ধীরে এমন মানসিক অবস্থায় নিয়ে যান, যেখানে নিজের চিন্তা ও এপস্টিনের প্রভাব আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের হাতে পাওয়া এক বিবৃতিতে কেলেন জানান, মাত্র ২১ বছর বয়সে হাওয়াইয়ের একটি হোটেলে চাকরির সময় এক সহকর্মীর মাধ্যমে এপস্টিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় ব্যক্তিগত জীবনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই দুর্বল অবস্থাকেই কাজে লাগান এপস্টিন।

কেলেনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাকে এপস্টিনের নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যক্তিগত দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে নিয়মিত জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হতো। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তাকে শারীরিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনায় কেলেন বলেন, কখনও কখনও গলা চেপে শ্বাসরোধের অবস্থায়ও তাকে ধর্ষণ করতেন এপস্টিন। তার দাবি, “আমাকে নির্যাতনের শিকার হওয়ার জন্যই অর্থ দেওয়া হতো। প্রতিটি মুহূর্তে তাকে সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হতো।”

এর আগে এপস্টিনের সহযোগী হিসেবে কেলেনকে নিয়ে তদন্ত হলেও তাকে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। কারণ, তদন্ত সংশ্লিষ্ট অনেকেই তাকে ভুক্তভোগী হিসেবেই বিবেচনা করেছেন।

হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, কেলেনের সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার বক্তব্য থেকে এপস্টিনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে।

বর্তমানে ৪২ বছর বয়সী সারাহ কেলেনের নাম ২০০৭ সালে মায়ামিতে হওয়া একটি বিতর্কিত সমঝোতা চুক্তিতেও উঠে আসে। সে সময় ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সঙ্গে এপস্টিনের গোপন সমঝোতায় কয়েকজন নারীকে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে কেলেন দাবি করেছেন, সেই চুক্তিতে নিজের নাম থাকার বিষয়টি তিনি অনেক পরে জানতে পারেন। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ তার বক্তব্যও নেয়নি।

তিনি বলেন, “গোপনে হওয়া সেই চুক্তির মাধ্যমে আমাকে অপরাধী হিসেবে দেখানো হয়েছিল, অথচ আমার সঙ্গে একবারও কথা বলা হয়নি।”

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ