মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আরোপ করা বিতর্কিত আমদানি শুল্ক বাতিলের পর সেই শুল্ক থেকে সংগৃহীত অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই অর্থ ফেরত মূলত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, ফলে সাধারণ ভোক্তারা সরাসরি কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। এর আগে এসব […]
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আরোপ করা বিতর্কিত আমদানি শুল্ক বাতিলের পর সেই শুল্ক থেকে সংগৃহীত অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই অর্থ ফেরত মূলত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, ফলে সাধারণ ভোক্তারা সরাসরি কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। এর আগে এসব শুল্ক থেকে প্রায় ১৬০ বিলিয়ন ডলার আদায় করা হয়েছিল। পরে মার্চে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান রিফান্ড পাওয়ার আওতায় এসেছে।
ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে শুরু করেছে। দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে এবং তা কয়েক হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ জন্য একটি বিশেষ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে, যেখানে অনুমোদিত আবেদনকারীরা ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সুদসহ অর্থ ফেরত পেতে পারেন।
তবে পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলো প্রযুক্তিগত জটিলতার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই অর্থকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য শুল্ক পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, শুল্ক আরোপের সময় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু তাদের জন্য কোনো সরাসরি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে অনেক ভোক্তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন, যাতে কোম্পানিগুলো প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেয়।
যদিও কিছু বড় কোম্পানি পণ্যের দাম কমানো বা বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, তবুও ধারণা করা হচ্ছে এই বিপুল অঙ্কের রিফান্ডের বেশিরভাগই ব্যবসায়িক খাতেই থেকে যাবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব সীমিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।