ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাত বছর পর ভারতে তার এই সফরকে ঘিরে রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ২০০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শি জিনপিংয়ের এবারের ভারত সফর দীর্ঘ নয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা নয়াদিল্লিতে অবস্থান করে […]
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাত বছর পর ভারতে তার এই সফরকে ঘিরে রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ২০০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
শি জিনপিংয়ের এবারের ভারত সফর দীর্ঘ নয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা নয়াদিল্লিতে অবস্থান করে রোববার সকালে তার ভারত ছাড়ার কথা রয়েছে। ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি। সাত বছর পর দুই নেতার এ বৈঠককে ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনা প্রেসিডেন্টের অবস্থানের জন্য নয়াদিল্লির তাজ প্যালেস হোটেল নির্ধারণ করা হয়েছে। তার নিরাপত্তায় হোটেল ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সন্ত্রাসবিরোধী ও বোমা শনাক্তকারী দলও মোতায়েন করা হয়েছে।
শির যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বসানো হয়েছে শত শত সিসিটিভি ক্যামেরা। বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।
শি জিনপিংয়ের চলাচলের প্রধান পথগুলোর একটিতে ৭০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পাঁচটি পৃথক নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তুঘলক রোড থানায়ও একটি বিশেষ ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণকক্ষ রাখা হয়েছে।
শি জিনপিংয়ের সফরের কয়েক দিন আগেই চীন থেকে তার ব্যবহারের জন্য রাষ্ট্রীয় গাড়ি ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ সরঞ্জাম ভারতে পাঠানো হয়েছে। একটি কার্গো বিমানে ‘হংকি’ ব্র্যান্ডের রাষ্ট্রীয় গাড়ি এবং একটি বিকল্প গাড়ি পাঠানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশি নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আনা কিছু সরঞ্জাম অবশ্য ভারতের নিজস্ব বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইট যোগাযোগের কিছু সরঞ্জাম ও নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে।
চীনা প্রেসিডেন্টের সফরের জন্য ব্যবহৃত বিমানটিও বিশেষভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমৃদ্ধ। শি জিনপিং এয়ার চায়নার পরিচালিত একটি পরিবর্তিত বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেন। বিমানটিতে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজন হলে তিনি চীনের সরকারি ও সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন।
ব্রিকস সম্মেলন ও বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিকে সামনে রেখে নয়াদিল্লির বিভিন্ন সড়কে সাময়িক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ভিভিআইপি চলাচলের রুটে প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন থামানো ও বিকল্প পথে পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষের চলাচলেও প্রভাব পড়ছে।
শি জিনপিংয়ের এ সফর শুধু ব্রিকস বৈঠকে অংশ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ বিরতির পর ভারত সফরে এসে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তিনি। দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স, আমার দেশ