সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৩:৫১ অপরাহ্ন, ৩১ আগস্ট ২০২৬

নির্বাচনের আগে চাপে নেতানিয়াহু, জরিপে এগিয়ে বিরোধীরা

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ততই প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে তার দল লিকুদের আসন কমার ইঙ্গিত মিলেছে। একই সময়ে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক শক্তি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। হাতে সময় রয়েছে আর মাত্র কয়েক […]

নির্বাচনের আগে চাপে নেতানিয়াহু, জরিপে এগিয়ে বিরোধীরা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ততই প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে তার দল লিকুদের আসন কমার ইঙ্গিত মিলেছে। একই সময়ে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক শক্তি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। হাতে সময় রয়েছে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। এই নির্বাচন নেতানিয়াহুর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে তিনি ক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে পরাজিত হলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরাইলের আদালতে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা চলছে। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। ফলে ক্ষমতায় থাকা তার জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জরিপে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহুর জোট

ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, এখনই নির্বাচন হলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অনারব বিরোধী দলগুলো পেতে পারে ৫৫টি আসন। আরব দলগুলোর আইনপ্রণেতারা পেতে পারেন ১৩টি আসন।

নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন কমপক্ষে ৬১টি আসনের সমর্থন। অর্থাৎ বর্তমান জরিপের হিসাবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো অবস্থানে নেই।

বিরোধী দলগুলো চাইলে আরব আইনপ্রণেতাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। তবে বিরোধী শিবিরের অনেক নেতা এখনো আরব দলগুলোর সঙ্গে এমন জোটের বিষয়ে অনাগ্রহী।

আইজেনকোটের উত্থানে চাপে লিকুদ

নেতানিয়াহুর জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি হয়ে উঠেছেন সাবেক ইসরাইলি সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। তার নতুন দল ইয়াশা অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ইয়াশা ২৪টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে নেতানিয়াহুর লিকুদের সম্ভাব্য আসন ২১টি। অর্থাৎ দলীয় জনপ্রিয়তার হিসাবে আইজেনকোটের দল বর্তমানে লিকুদের চেয়েও এগিয়ে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেশি যোগ্য মনে করেন—এমন প্রশ্নেও আইজেনকোট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা তাকে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য উপযুক্ত মনে করেছেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৭ শতাংশ।

ডানপন্থী ভোট ধরে রাখাই নেতানিয়াহুর বড় চ্যালেঞ্জ

নেতানিয়াহুর জোটের মূল শক্তি ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী ভোটারদের সমর্থন। ফলে এই ভোটব্যাংক ধরে রাখতে তিনি ছোট ডানপন্থী দলগুলোকে একত্র করার চেষ্টা করছেন।

নেতানিয়াহুর আরেকটি বড় রাজনৈতিক চাপ হলো নতুন ডানপন্থী দলগুলোর উত্থান। এসব দল আলাদা অবস্থানে নির্বাচন করলে একই রাজনৈতিক ঘরানার ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে। এতে লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়েও নেতানিয়াহুর সরকার কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন ধরে রাখার নীতি অনুসরণ করছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

নেতানিয়াহু ও কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের দাবি, ২০২২ সালের শেষ দিকে সরকার গঠনের পর পশ্চিম তীরে ১০৪টি বসতি নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৬০টি কৃষি বসতি চৌকি স্থাপনের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

আরব ভোট বাড়লে বদলে যেতে পারে সমীকরণ

নির্বাচনের ফল নির্ধারণে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইসরাইলের প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ আরব নাগরিক। সাম্প্রতিক জরিপে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য আসন সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩টিতে পৌঁছানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগের জরিপগুলোতে এই সংখ্যা প্রায় ১০টি ছিল।

আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়লে ছোট ডানপন্থী দলগুলোর জন্য নির্বাচনী সীমা অতিক্রম করা কঠিন হতে পারে। এর ফলে ডানপন্থী ভোটের একটি অংশ আসনে রূপান্তরিত না হলে নেতানিয়াহুর জোট প্রয়োজনীয় ৬১ আসন থেকে আরও দূরে সরে যেতে পারে।

এই কারণেই ডানপন্থী ভোট বিভক্ত হওয়া ঠেকাতে ছোট দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু।

ঐক্যের চেষ্টা, কিন্তু সমাধান মিলছে না

নেতানিয়াহু ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থী জিউইশ পাওয়ার পার্টি এবং স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টিকে একীভূত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।

এখন তিনি স্মোট্রিচ ও লিকুদের সাবেক সংসদ সদস্য মোশে ফাইগলিনের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা করছেন।

ইসরাইলি চ্যানেল ২৪-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী তালিকা জমা দেওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় স্মোট্রিচ, ফাইগলিন এবং বেন-গভির অথবা ওফার উইন্টারের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় ডানপন্থী জোট গঠনের চেষ্টা চলছে।

চ্যানেলটির প্রতিবেদনে এক লিকুদ নেতাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা ‘রাশিয়ান রুলেটের’ মতো। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা সফল হবে কি না, তা নিয়ে দলের ভেতরেও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নির্বাচনের আগে তাই নেতানিয়াহুর সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে বিরোধী শিবিরের শক্তিশালী হয়ে ওঠা, অন্যদিকে ডানপন্থী ভোটের বিভাজন ঠেকানো। আগামী কয়েক সপ্তাহে এই দুই সমীকরণের কোনটি কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ