সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

পরিবেশ
৪:১৯ অপরাহ্ন, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত, ঘূর্ণিঝড় হলে নাম হবে ‘অর্ণব’

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। এটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাগুলো। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’, যা বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নাম। তবে প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে। ফলে আপাতত বাংলাদেশের দিকে সরাসরি এগিয়ে আসার আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। […]

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত, ঘূর্ণিঝড় হলে নাম হবে ‘অর্ণব’

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। এটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাগুলো। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’, যা বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নাম। তবে প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে। ফলে আপাতত বাংলাদেশের দিকে সরাসরি এগিয়ে আসার আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে পূর্বমধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপটি অবস্থান করছিল। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি ওই দিন নিম্নচাপে পরিণত হয়। পরে আরও শক্তিশালী হয়ে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক গণমাধ্যমকে জানান, লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর গতিপথ বাংলাদেশের দিকে হওয়ার আশঙ্কা আপাতত খুব কম। তা সত্ত্বেও ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তিনি জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে বিচরণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে আবহাওয়াব্যবস্থাটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৮ অক্টোবরের দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে আবহাওয়াব্যবস্থাটির শক্তি ও গতিপথ পরবর্তী পূর্বাভাসে পরিবর্তিত হতে পারে।

বাংলাদেশের যেসব অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা

আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, লঘুচাপটির প্রভাবে ২৭ অক্টোবর থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ২৯ অক্টোবর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে অক্টোবরের শুরুতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল।

ঘূর্ণিঝড় হলে নাম হবে ‘অর্ণব’

বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করা হয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) আঞ্চলিক প্যানেলের অনুমোদিত তালিকা থেকে। এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ পর্যায়ক্রমে নাম প্রস্তাব করে।

দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত, যার অর্থ সাগর। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সক্রিয় আবহাওয়াব্যবস্থাগুলোর মধ্যে যেটি আগে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, সেটির নাম হবে ‘অর্ণব’।

পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মুরাসু’

তালিকা অনুযায়ী, ‘অর্ণব’-এর পরবর্তী নাম ‘মুরাসু’, যা ভারতের প্রস্তাবিত। তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ বলতে ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কাকে বোঝায়। প্রাচীনকালে রাজকীয় ঘোষণা, জনসাধারণের কাছে বার্তা পৌঁছানো কিংবা মানুষকে সতর্ক করার জন্য ডঙ্কা বাজানোর প্রচলন ছিল।

উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণে নির্ধারিত তালিকা অনুসরণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, একই অঞ্চলে একাধিক ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে সেগুলোকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা এবং সতর্কবার্তা ও আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে বিভ্রান্তি কমানো।

বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়াব্যবস্থাটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না এবং এর চূড়ান্ত গতিপথ কোথায় হবে, তা জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পরবর্তী পূর্বাভাস অনুসরণ করা প্রয়োজন।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ