সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
১:১২ অপরাহ্ন, ৩১ আগস্ট ২০২৬

ভারতের মোদির সঙ্গে বৈঠকে ইরানি প্রেসিডেন্ট, যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নীতির সমালোচনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি পক্ষ এই অঞ্চলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে […]

ভারতের মোদির সঙ্গে বৈঠকে ইরানি প্রেসিডেন্ট, যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নীতির সমালোচনা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি পক্ষ এই অঞ্চলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও অন্যান্য সূত্রের প্রতিবেদনে বৈঠকের এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনো যুদ্ধ চায়নি এবং যুদ্ধকে স্বাগতও জানায়নি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে ইরান এখনো সমঝোতা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খোলা রাখতে চায়।

তিনি বলেন, কিছু পক্ষ যুদ্ধ চলতে থাকায় নিজেদের স্বার্থ দেখছে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বৈঠকে মোদিও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান সংকটের সব সমস্যার সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

আলোচনায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবাধ নৌ চলাচলের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মোদি বাণিজ্যিক নৌযান ও নাবিকসহ বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

দুই নেতা ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাণিজ্য, পরিবহন ও সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় হয়। হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

চাবাহার বন্দরে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ রয়েছে। ভারতের জন্য বন্দরটি মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে চাবাহারকে ঘিরে ভারতের স্বার্থও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতা বহুপক্ষীয় ফোরামেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। বিশেষ করে এসসিও ও ব্রিকসের মতো প্ল্যাটফর্মে ভারত-ইরান সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ করার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন মোদি। একই সঙ্গে ভারতের পরবর্তী ব্রিকস সম্মেলনে পেজেশকিয়ানকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

পেজেশকিয়ানও ভারত-ইরান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিশকেকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ছিল পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে দুই নেতার প্রথম সরাসরি বৈঠক। এর আগে তারা কয়েক দফা ফোনে কথা বললেও চলমান যুদ্ধের পর এটাই ছিল তাদের প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ।

বৈঠকে একদিকে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা উঠে এসেছে, অন্যদিকে ভারত কূটনীতি, শান্তি এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলের ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি চাবাহার বন্দর ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ