ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। ভোটকে কেন্দ্র করে ঘোষিত টানা চার দিনের ছুটিতে কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন ভোটাররা। ফলে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে ঈদের সময়ের মতোই উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশন, গাবতলী, কল্যাণপুর ও সদরঘাট এলাকায় ঘরমুখী মানুষের […]
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। ভোটকে কেন্দ্র করে ঘোষিত টানা চার দিনের ছুটিতে কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন ভোটাররা। ফলে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে ঈদের সময়ের মতোই উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশন, গাবতলী, কল্যাণপুর ও সদরঘাট এলাকায় ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে। ট্রেনে আসন না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে কিংবা ঝুঁকি নিয়ে ছাদে করেই যাত্রা করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোতেও। যাত্রীর তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিরাজগঞ্জগামী ট্রেনে ওঠা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছে, কিন্তু বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠছেন। সরকারের উচিত ছিল বিশেষ ট্রেন চালু করা।
প্রথমবার ভোট দিতে ময়মনসিংহে যাচ্ছেন রুমান হাসান। তিনি বলেন, বাড়তি বিশেষ ট্রেন থাকলে মানুষের দুর্ভোগ অনেক কম হতো। এখনো এক দিন সময় আছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
গাজীপুরের টঙ্গী রেলস্টেশনে সকাল থেকেই যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ লক্ষ্য করা যায়। প্রায় প্রতিটি ট্রেনে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ছিল। যারা ভেতরে জায়গা পাননি, তারা ছাদে করেই রওনা দেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাদে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়নি, তবে যাত্রীরা বিভিন্নভাবে উঠে পড়ছেন।
সড়কপথেও ছিল তীব্র যানজট। বিশেষ করে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় লেগেছে।
পোশাকশ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোট দিতে ছুটি পেয়ে সকালে রওনা হয়েছেন, কিন্তু এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যানজটে আটকে আছেন। কখন বাড়িতে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
গৃহকর্মী হাসিনা বেগম বলেন, ছোট সন্তান নিয়ে দীর্ঘ যানজটে পড়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে, তবে ভোট দেওয়ার জন্যই এত কষ্ট করে বাড়িতে যাচ্ছেন।
এদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও দিনভর যাত্রীদের ভিড় ছিল কয়েক গুণ বেশি। বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে একের পর এক লঞ্চ ছেড়ে গেছে।
সব মিলিয়ে ভোট উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে, যা পরিবহনব্যবস্থায় সৃষ্টি করেছে বাড়তি চাপ ও ভোগান্তি।
সূত্র: প্রথম আলো