সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

অন্যান্য
৪:০৪ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

মোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা ও দাম্পত্য জীবনে তার প্রভাব শরীয়তের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ

মোহর—ইসলামী দাম্পত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাধ্যতামূলক অংশ। এটি স্ত্রীদের পূর্ণ অধিকার ও স্বামীর ওপর ফরজ ঋণ হিসেবে গণ্য। তবে মোহর পরিশোধের সময়সীমা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হবে, তা শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। মোহরের ধরন ও পরিশোধের সময়সীমা মোহর বিভিন্ন ধরনের হতে পারে এবং তার পরিশোধের সময় অনুযায়ী স্ত্রীর দাবি […]

মোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা ও দাম্পত্য জীবনে তার প্রভাব শরীয়তের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

মোহর—ইসলামী দাম্পত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাধ্যতামূলক অংশ। এটি স্ত্রীদের পূর্ণ অধিকার ও স্বামীর ওপর ফরজ ঋণ হিসেবে গণ্য। তবে মোহর পরিশোধের সময়সীমা এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হবে, তা শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে।

মোহরের ধরন ও পরিশোধের সময়সীমা

মোহর বিভিন্ন ধরনের হতে পারে এবং তার পরিশোধের সময় অনুযায়ী স্ত্রীর দাবি করার অধিকার ভিন্ন:

1.তৎক্ষণাত মোহর:
যদি মোহর এমনভাবে নির্ধারিত হয় যে, স্ত্রীর দাবি করার সঙ্গে সঙ্গে স্বামীর মোহর পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক, তখন মোহর পরিশোধ স্বামীর জন্য ওয়াজিব। অর্থাৎ, স্ত্রী যখন মোহর দাবি করবেন, তখন স্বামীকে তা প্রদান করতে হবে।

2.নির্দিষ্ট সময়সীমার মোহর:
মোহরের জন্য যদি একটি নির্দিষ্ট সময়—যেমন এক বছর বা দুই বছর—নির্ধারণ করা থাকে, তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর স্ত্রী মোহর দাবি করতে পারেন এবং স্বামীর জন্য তা পরিশোধ করা ফরজ। তবে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে স্ত্রী মোহর দাবি করতে পারবেন না।

  1. বিলম্বিত মোহর (বিচ্ছেদের পর প্রদানযোগ্য):
    যদি মোহর নির্ধারিত হয় শুধুমাত্র বিচ্ছেদের পর (তালাক বা স্বামীর মৃত্যু) পরিশোধযোগ্য, তাহলে স্ত্রী জীবিত অবস্থায় মোহর দাবি করতে পারেন না। এই ক্ষেত্রে মোহর পরিশোধের সময় বিচ্ছেদের পরেই।

মোহর পরিশোধে অক্ষম হলে স্ত্রীর অধিকার ও দাম্পত্য সম্পর্ক

প্রথম দুই ধরণের মোহরের ক্ষেত্রে, যখন স্বামী মোহর পরিশোধে অক্ষম হন, তখন স্ত্রীর হাতে দুইটি বিকল্প থাকে:

সম্মতি দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন:
যদি স্ত্রী স্বেচ্ছায় রাজি থাকেন এবং সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে মোহর পরিশোধ না হলেও দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাওয়ায় কোন বাধা নেই। এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস ও সম্পর্ক বৈধ।

অস্বীকৃতি ও সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত থাকা:
যদি স্ত্রী স্পষ্টভাবে মোহর না পাওয়া পর্যন্ত দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করতে না চান, শরীয়ত তাকে এই অধিকার দিয়েছে। স্বামী তাকে জোর করতে পারবেন না।

অন্যদিকে, যদি মোহর কেবল বিচ্ছেদের পর প্রদানযোগ্য ধরণের হয়, তাহলে স্ত্রীর কাছে জীবিত অবস্থায় সম্পর্ক প্রত্যাখ্যানের অধিকার নেই এবং স্বামী-স্ত্রীর সহবাস বৈধ থাকবে।

মোহরের গুরুত্ব ও সামাজিক প্রভাব

মোহর শুধুমাত্র আর্থিক বিষয় নয়, এটি একটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। এটি স্বামীর কর্তব্য, যা দ্রুত পরিশোধ করা উচিত। মোহর ঝুলিয়ে রাখা বা পরিশোধে দেরি করা দাম্পত্য জীবনে মানসিক ও সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

মোহর দ্রুত পরিশোধ না হলে স্ত্রীর নিরাপত্তা ও সম্মান ক্ষুণ্ন হতে পারে, যা সমাজে নারীর অধিকার ও মর্যাদাকে প্রভাবিত করে। তাই মোহরকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করা উচিত, যাতে পারিবারিক শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

মোহর স্বামীর একটি ফরজ ঋণ ও স্ত্রীর পূর্ণ অধিকার। মোহর পরিশোধের ধরন ও সময় অনুযায়ী স্ত্রীর দাবি করার অধিকার এবং দাম্পত্য সম্পর্কের বৈধতা নির্ধারিত হয়। স্বামী মোহর পরিশোধে অক্ষম হলে স্ত্রীর সম্মতি বা অস্বীকৃতি অনুযায়ী সম্পর্ক পরিচালিত হয়। মোহর ঝুলিয়ে রাখা যৌক্তিক নয়, এটি দ্রুত পরিশোধ করাই উত্তম, যা সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ