সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৩:৫৫ পিএম, ৩ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে ৩ কোটির বেশি মশা ছাড়তে চায় গুগল

মশাবাহিত রোগ দমনে এবার ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ বন্ধ্যা পুরুষ মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্য—ডেঙ্গু, জিকা, চিকুনগুনিয়া ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ছড়ানো বিপজ্জনক মশার সংখ্যা কমিয়ে আনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, গুগলের ‘ডিবাগ’ নামের একটি প্রকল্পের আওতায় এই […]

যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে ৩ কোটির বেশি মশা ছাড়তে চায় গুগল

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

মশাবাহিত রোগ দমনে এবার ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ বন্ধ্যা পুরুষ মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্য—ডেঙ্গু, জিকা, চিকুনগুনিয়া ও ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ছড়ানো বিপজ্জনক মশার সংখ্যা কমিয়ে আনা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, গুগলের ‘ডিবাগ’ নামের একটি প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে পুরুষ মশাগুলোকে এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে তারা স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হলেও ডিম থেকে নতুন মশা জন্ম না নেয়।

মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) জানিয়েছে, গুগলের আবেদনের ভিত্তিতে দুই বছর মেয়াদি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অনুমোদন বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১ কোটি ৬০ লাখ করে মশা ছাড়া হতে পারে। জনমত যাচাই শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষ মশা মানুষের রক্ত খায় না এবং রোগও ছড়ায় না। তাই এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার তুলনামূলক নিরাপদ হতে পারে। গুগল বলছে, প্রতিটি প্রজন্মে মশার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রোগ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে।

গুগলের এই প্রকল্প মূলত ‘ভেরিলি’ নামের স্বাস্থ্য প্রযুক্তি উদ্যোগ থেকে শুরু হয়েছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পটি পুরোপুরি নিজেদের অধীনে নেয়। বহু বছর ধরে তারা প্রযুক্তি, ডেটা বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মশা দমন পদ্ধতি উন্নয়নের কাজ করছে।

প্রচলিত কীটনাশক ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছে গুগল। তাদের দাবি, স্প্রে বা রাসায়নিক পদ্ধতি পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মশা এসবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। অন্যদিকে, সব প্রজননস্থল খুঁজে পরিষ্কার করাও প্রায় অসম্ভব।

এই কর্মসূচিতে মূলত ‘এডিস ইজিপ্টাই’ প্রজাতির মশাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ প্রজাতিই ডেঙ্গু, জিকা ও পীতজ্বরের মতো রোগ ছড়ানোর জন্য বেশি পরিচিত।

গুগলের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে একই ধরনের পরীক্ষামূলক প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া গেছে। সেখানে উলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়াযুক্ত পুরুষ মশা ছাড়ার পর নির্দিষ্ট এলাকায় এডিস মশার সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ