সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১:১০ পিএম, ৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া এফবিআই তদন্তের ফাঁদে পড়ে আড়াই লাখ ডলার হারালেন এক বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ৬৮ বছর বয়সী স্থপতি অ্যালান জিম্বলার একটি সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে জীবনের সঞ্চয় থেকে প্রায় আড়াই লাখ ডলার হারিয়েছেন। নিজেদের এফবিআই (FBI) কর্মকর্তা এবং মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে ভয়ভীতি, প্রতারণা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তার কাছ থেকে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি। ঘটনার […]

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভুয়া এফবিআই তদন্তের ফাঁদে পড়ে আড়াই লাখ ডলার হারালেন এক বৃদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ৬৮ বছর বয়সী স্থপতি অ্যালান জিম্বলার একটি সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে জীবনের সঞ্চয় থেকে প্রায় আড়াই লাখ ডলার হারিয়েছেন। নিজেদের এফবিআই (FBI) কর্মকর্তা এবং মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে ভয়ভীতি, প্রতারণা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তার কাছ থেকে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

ঘটনার শুরু গত ৩০ মার্চ। সেদিন অ্যালান জিম্বলারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP)-এর একজন কর্মকর্তা পরিচয়ে একটি ফোন আসে। ফোনে তাকে জানানো হয়, ওয়াশিংটন থেকে ভিয়েতনামে পাঠানো একটি সন্দেহজনক পার্সেলে তার নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে। প্রতারকরা দাবি করে, ওই পার্সেলের ভেতরে একাধিক ডেবিট কার্ড, সিম কার্ড এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের মতো সামগ্রী পাওয়া গেছে। এসবের ভিত্তিতে তাকে একটি আন্তর্জাতিক অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এরপর তাকে জানানো হয়, এ বিষয়ে এফবিআই তদন্ত শুরু করেছে এবং তাকে ওয়াশিংটনে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে। অ্যালান ওয়াশিংটনে যেতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রতারকরা তাকে আশ্বস্ত করে যে, বিশেষ ব্যবস্থায় অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করা হবে।

ভিডিও কলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের এফবিআইয়ের সাইবার ও কাউন্টার টেররিজম বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড স্কট এবং মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবী অ্যান্ড্রু টাইসেন ডুভা হিসেবে পরিচয় দেন। অ্যালান তাদের পরিচয় যাচাই করতে ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করে দেখেন যে, এই নামের বাস্তব কর্মকর্তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। ফলে তিনি ধরে নেন ভিডিও কলে থাকা ব্যক্তিরাই প্রকৃত সরকারি কর্মকর্তা।

বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়ানোর জন্য প্রতারকরা এফবিআইয়ের লোগোসংবলিত পোশাক পরে ভিডিও কলে উপস্থিত হয়। শুধু তাই নয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অ্যাক্টিং অ্যাটর্নি জেনারেলের জাল স্বাক্ষরযুক্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, জামিন-সংক্রান্ত নথি এবং তদন্তের বিভিন্ন ভুয়া সরকারি কাগজপত্রও দেখায়। এসব দেখে অ্যালান পুরো বিষয়টিকে বাস্তব বলে বিশ্বাস করেন।

প্রতারকরা তাকে তদন্তের গোপনীয়তার কথা বলে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়, যেন তিনি বিষয়টি স্ত্রী, পরিবারের অন্য সদস্য কিংবা স্থানীয় পুলিশ কাউকে না জানান। এমনকি তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের অজুহাতে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর নিজের ছবি তুলে তাদের কাছে ‘সেফটি রিপোর্ট’ হিসেবে পাঠাতে বাধ্য করা হয়।

একপর্যায়ে তাকে জানানো হয়, আদালতের মাধ্যমে তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে এবং তদন্ত চলাকালে জামিন নিশ্চিত করতে তাকে বিপুল অর্থ জমা দিতে হবে। ভয় ও মানসিক চাপে পড়ে অ্যালান নিজের অবসরকালীন তহবিল (রিটায়ারমেন্ট ফান্ড) এবং বাড়ি বিক্রির অর্থ থেকে দুই দফায় মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন।

অর্থ পাঠানোর পরপরই প্রতারকরা সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তাদের ব্যবহৃত ফোন নম্বর, ই-মেইল ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টও অকার্যকর হয়ে যায়। তখনই অ্যালান বুঝতে পারেন, তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের শিকার হয়েছেন।

ঘটনার পর তিনি স্থানীয় পুলিশ এবং এফবিআইয়ের ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারে (IC3) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো।

প্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ভিডিও প্রযুক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রতারকরা এখন সরকারি সংস্থার নাম, লোগো, জাল নথি এমনকি বাস্তব কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

এফবিআই এ ঘটনায় আবারও জনসাধারণকে সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো সরকারি সংস্থা কখনো ফোন করে অর্থ, জামিন বা ব্যাংক ট্রান্সফারের নির্দেশ দেয় না। এমন কোনো ফোন বা ভিডিও কল এলে সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল নম্বর বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সন্দেহজনক ঘটনা দ্রুত স্থানীয় পুলিশ বা এফবিআইয়ের কাছে জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ