বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভিবাসী গন্তব্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত জীবনযাত্রা, উচ্চশিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কোটি মানুষ সেখানে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি। অভিবাসনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় উৎস […]
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভিবাসী গন্তব্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত জীবনযাত্রা, উচ্চশিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কোটি মানুষ সেখানে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি।
অভিবাসনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় উৎস দেশ এখনো মেক্সিকো। কয়েক দশক ধরে লাখো মেক্সিকান নাগরিক কর্মসংস্থান, পারিবারিক পুনর্মিলন ও উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। বর্তমানে দেশটিতে এক কোটির বেশি মেক্সিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসী বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ইলিনয়ে তাদের বড় কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।
মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। বিশেষ করে প্রযুক্তি, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও গবেষণাখাতে ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় অংশ এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন। ভারতীয়-আমেরিকানরা বর্তমানে দেশটির অন্যতম উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চ আয়ের অভিবাসী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি ও ব্যবসাখাতে চীনা নাগরিকদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে বড় চীনা কমিউনিটি রয়েছে। এছাড়া ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, কিউবা, এল সালভাদর, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরাও যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য অভিবাসী জনগোষ্ঠী তৈরি করেছেন।
গবেষকদের মতে, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ধরণেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যেতেন, এখন সেখানে এশিয়ার দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভারত, চীনসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিকরা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন।
এই ধারায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও অভিবাসনভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বা বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ থেকে তিন লাখের মধ্যে। সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ সাধারণত বিশ্বের শীর্ষ ২৫ থেকে ৩০টি অভিবাসী উৎস দেশের মধ্যে অবস্থান করে।
যদিও মেক্সিকো, ভারত বা চীনের তুলনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির আকার এখনো ছোট, তবে গত এক দশকে তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, মিশিগান, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের বসবাস দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। ছোট ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানরা স্থানীয় রাজনীতি, প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষিত তরুণ পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের কারণে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে। পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, শিক্ষাভিসা, কর্মভিসা ও বৈচিত্র্য ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর নতুন বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছেন।
অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও কঠোর নীতির আলোচনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় অভিবাসী গন্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।