যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে প্রচলিত বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের নিয়ম বাতিলের উদ্যোগ আবারও জোরালো হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ পাস হওয়ায় এখন বিলটি সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চূড়ান্তভাবে আইন কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঞ্চলে আর বসন্ত ও শরৎ মৌসুমে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে নিতে হবে না। […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর ধরে প্রচলিত বছরে দুবার ঘড়ির সময় পরিবর্তনের নিয়ম বাতিলের উদ্যোগ আবারও জোরালো হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ পাস হওয়ায় এখন বিলটি সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চূড়ান্তভাবে আইন কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঞ্চলে আর বসন্ত ও শরৎ মৌসুমে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে নিতে হবে না।
মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলটি ৩০৮-১১৭ ভোটে অনুমোদন পায়। এখন এটি সিনেটে পাস হতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর পেলেই তা আইনে পরিণত হবে। হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, বিলটি প্রেসিডেন্টের টেবিলে পৌঁছালে অনুমোদনের সুপারিশ করা হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর মার্চ মাসে ডে-লাইট সেভিং টাইম (Daylight Saving Time) শুরু হলে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয়। আবার নভেম্বর মাসে স্ট্যান্ডার্ড টাইমে ফিরে যেতে ঘড়ি এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
নতুন বিল কার্যকর হলে ডে-লাইট সেভিং টাইম সারা বছর বহাল থাকবে। অর্থাৎ বছরে দুবার সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন থাকবে না। তবে বিল অনুযায়ী, কোনো অঙ্গরাজ্য চাইলে নিজস্ব আইনসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে এই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগও পাবে।
বিলটির সমর্থকদের মতে, বছরে দুবার সময় পরিবর্তনের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কর্মসূচি এবং ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তারা বলছেন, স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু হলে সন্ধ্যায় দীর্ঘ সময় প্রাকৃতিক আলো পাওয়া যাবে, ফলে মানুষ বাইরে বেশি সময় কাটাতে পারবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনোদন খাতও উপকৃত হবে।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান গাস বিলিরাকিস বলেন, অপ্রয়োজনীয় সময় পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর লাখো মানুষের দৈনন্দিন রুটিন বিঘ্নিত হয়। তার মতে, পর্যটননির্ভর অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য দীর্ঘ সন্ধ্যার আলো অর্থনৈতিকভাবেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সব আইনপ্রণেতা অবশ্য এই পরিবর্তনের পক্ষে নন।
বিরোধীদের যুক্তি, ডে-লাইট সেভিং টাইম সারা বছর চালু থাকলে শীতকালে সূর্য অনেক দেরিতে উঠবে। ফলে স্কুলগামী শিশু, কর্মজীবী মানুষ এবং সকালের যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অন্ধকারে চলাচল করতে হবে, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান মেরি গে স্ক্যানলনের মতে, শীতের সকালে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সময়।
অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকগভার্ন প্রশ্ন তুলেছেন, মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের মতো বড় জাতীয় সমস্যার সময় ঘড়ির সময় পরিবর্তনই কি কংগ্রেসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত?
২০২৫ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, বাধ্যতামূলকভাবে একটি ব্যবস্থা বেছে নিতে হলে ৫৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু রাখার পক্ষে মত দেন।
তাদের যুক্তি, সকালে কিছুটা বেশি অন্ধকার থাকলেও সন্ধ্যায় অতিরিক্ত দিনের আলো পরিবার, ব্যবসা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য বেশি উপকারী।
অন্যদিকে প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা সারা বছর স্ট্যান্ডার্ড টাইম বজায় রাখার পক্ষে মত দেন।
যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে শক্তি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রথম ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করা হয়। এরপর থেকে এটি নিয়ে বিতর্ক কখনোই পুরোপুরি থামেনি।
চার বছর আগে সিনেট একই ধরনের একটি বিল পাস করলেও তা প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পায়নি। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। হাউস বিলটি পাস করায় আবারও বাস্তবে এই পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সিনেটে বিলটি অনুমোদিত হয়ে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর পেলে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিকের জন্য বহু দশকের একটি পরিচিত রীতি—বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন—ইতিহাস হয়ে যেতে পারে।