সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১২:১০ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: মিথ্যা তথ্যে ধরা পড়ল সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রধান সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়া শুরুতে ভুল তথ্য দিয়ে তদন্তকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত প্রমাণের মুখে তা টেকেনি।নিহত জামিল লিমন এবং নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টি-র ঘটনায় হিলসবোরো কাউন্টি আদালতে জমা দেওয়া প্রসিকিউটরদের আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং অভিযুক্ত […]

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: মিথ্যা তথ্যে ধরা পড়ল সন্দেহভাজন

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রধান সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়া শুরুতে ভুল তথ্য দিয়ে তদন্তকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত প্রমাণের মুখে তা টেকেনি।
নিহত জামিল লিমন এবং নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টি-র ঘটনায় হিলসবোরো কাউন্টি আদালতে জমা দেওয়া প্রসিকিউটরদের আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং অভিযুক্ত মুক্ত থাকলে জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তদন্তকারীরা জানান, গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে নাহিদা বৃষ্টিও।
নাহিদা বৃষ্টির পরিবারের কাছে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ, সন্দেহভাজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করা বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ রক্তের চিহ্ন উদ্ধার করা হয়েছে, যা ভয়াবহ সহিংসতার ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি জলাশয় থেকে কিছু দেহাংশ পাওয়া গেছে। তবে এগুলো বৃষ্টির কি না, তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তের শুরুতে হিশাম দাবি করেছিলেন, ঘটনার দিন তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে ছিলেন না। কিন্তু মোবাইল ফোনের অবস্থান ও গাড়ির ডেটা তার বক্তব্যের সঙ্গে মিলেনি। পরে তিনি বক্তব্য বদলে বলেন, তিনি তাদের ক্লিয়ারওয়াটার বিচ এলাকায় নামিয়ে দিয়েছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার হাতে থাকা ব্যান্ডেজ নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তিনি এটি রান্নার সময় কাটা বলে ব্যাখ্যা দিলেও তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এটি ধস্তাধস্তির সময়ের আঘাত হতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে তার বাসা থেকে একটি ফার্মেসির রসিদ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ঘটনার দিনই তিনি ট্র্যাশ ব্যাগ, জীবাণুনাশক ওয়াইপস এবং গন্ধনাশক স্প্রে কিনেছিলেন—যা প্রমাণ নষ্টের প্রচেষ্টার ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
বর্তমানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা, মৃতদেহ গোপন, আলামত নষ্ট এবং অবৈধভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা পুরো সম্প্রদায়কে নাড়িয়ে দিয়েছে।
আগামী ২৮ এপ্রিল মামলার প্রি-ট্রায়াল শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার আবেদন জানাবে প্রসিকিউশন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ