যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য নাগরিকত্ব অর্জনের পথ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। দেশটির প্রশাসন নাগরিকত্ব আবেদন সংক্রান্ত ফি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আবেদনকারীদের বর্তমানের তুলনায় অতিরিক্ত কয়েকশ ডলার বেশি খরচ করতে হবে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালায় জানিয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদন করার জন্য ব্যবহৃত […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য নাগরিকত্ব অর্জনের পথ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। দেশটির প্রশাসন নাগরিকত্ব আবেদন সংক্রান্ত ফি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আবেদনকারীদের বর্তমানের তুলনায় অতিরিক্ত কয়েকশ ডলার বেশি খরচ করতে হবে।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালায় জানিয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদন করার জন্য ব্যবহৃত এন-৪০০ (N-400) ফরমের ফি কাগজে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান ৭৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অনলাইনে আবেদনকারীদের জন্য ফি ৭১০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২৮০ ডলার নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে নাগরিকত্ব আবেদনকারীদের মোট ব্যয় গড়ে প্রায় ৫৭০ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু ফি বৃদ্ধি নয়, নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বর্তমানে চালু থাকা ফি মওকুফ এবং কম ফিতে আবেদন করার সুযোগও বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান সদস্য ও সাবেক সেনা সদস্যদের জন্য বিদ্যমান বিশেষ সুবিধাগুলো বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।
তবে এই পরিবর্তন এখনই কার্যকর হচ্ছে না। এটি আপাতত একটি প্রস্তাবিত বিধিমালা মাত্র। চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে জনমত গ্রহণ, পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত সময়সীমার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ফি বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, নাগরিকত্ব আবেদন যাচাই-বাছাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় যে ব্যয় হয়, বর্তমান ফি দিয়ে তার পুরোটা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। আবেদনকারীদের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার পূর্ণ ব্যয় আদায়ের লক্ষ্যেই নতুন প্রস্তাব আনা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন সমালোচক গোষ্ঠী এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, ফি এতটা বৃদ্ধি পেলে অনেক বৈধ অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্ব অর্জন কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপের মুখে পড়বে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্বের আবেদন ফি এমন পর্যায়ে রেখেছিল যাতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা নাগরিকত্ব গ্রহণে উৎসাহিত হন। নতুন প্রস্তাব সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি অভিবাসীদের নাগরিকত্ব গ্রহণের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ধারাবাহিকতার মধ্যেই এই পদক্ষেপ এসেছে। ফলে নাগরিকত্ব আবেদন ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব দেশটির অভিবাসন নীতি এবং অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।