যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। দেশটির এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কাতারের আমিরের কার্যালয় (আমিরি দিওয়ান) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। দেশটির এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কাতারের আমিরের কার্যালয় (আমিরি দিওয়ান) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দূরত্ব কমানো এবং একটি স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়।
কাতার জানিয়েছে, গত জুনে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারীরা একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করতে কাজ করছেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ এখনও রয়েছে। তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না। তবে ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
কাতারের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে যায়। বিনিয়োগকারীদের আশা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ কমবে। যদিও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এখনো নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি এবং সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমে এলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।