যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান বলে দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইত্তেফাক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে আগের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে তেহরান। দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে দেশটিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলাই ইরানের অন্যতম লক্ষ্য […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান বলে দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইত্তেফাক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে আগের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে তেহরান। দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে দেশটিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলাই ইরানের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।
তবে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার মাত্রা সীমিত রয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার পথে এগোতে পারে ইরান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে ধারণা পেয়েছে। এর ফলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য রয়েছে—এমন আত্মবিশ্বাসও তেহরানের মধ্যে তৈরি হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করে দেওয়ার লক্ষ্যও থাকতে পারে ইরানের।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জবাবেও ইরান উত্তেজনা বাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গত জুলাইয়ের মতো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
ইরানি হ্যাকাররা আবারও সংগঠিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দারা।
এ ধরনের হামলার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব তৈরি করা। এর মাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে তেহরান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সব মিলিয়ে, সামরিক হামলা, আঞ্চলিক অবকাঠামোয় আঘাত এবং সাইবার তৎপরতার মাধ্যমে সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করার প্রস্তুতি ইরানের রয়েছে বলে ধারণা করছে মার্কিন গোয়েন্দা মহল।