বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সময় রেমিট্যান্স ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের টিকে থাকার অন্যতম মূল শক্তি। এই মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার ইতালির রোমে বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে একটি বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেন। সংকটময় সময়ের স্মৃতি ও রেমিট্যান্সের অবদান ড. ইউনূস জানান, যখন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, […]
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সময় রেমিট্যান্স ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের টিকে থাকার অন্যতম মূল শক্তি। এই মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার ইতালির রোমে বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে একটি বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
সংকটময় সময়ের স্মৃতি ও রেমিট্যান্সের অবদান
ড. ইউনূস জানান, যখন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, তখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অতি সংকটজনক। কর্মচারীদের বেতন দেওয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল ছিল না। “কোথা থেকে শুরু করব বুঝতে পারছিলাম না,”—এই কথাগুলো দিয়ে তিনি তৎকালীন পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন। এই সংকটের মুহূর্তে বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছিল সরকারের জন্য এক অনন্য সাহায্য এবং শক্তির উৎস। এটি না থাকলে সরকারের টিকে থাকা কঠিন হতো বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের আচরণ ও ইতালির অভিজ্ঞতা
ড. ইউনূস প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কিছু সতর্কতামূলক কথাও বলেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে কিছু প্রবাসী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। ইতালির প্রেক্ষাপটেও এমন কিছু সমস্যা হয়েছে। তিনি প্রবাসীদের এসব নেতিবাচক প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
রোম সফরে ড. ইউনূস জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) ভারপ্রাপ্ত প্রধান কার্ল স্কাউরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আলোচিত হয় বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি। কার্ল স্কাউর পুনরায় আশ্বাস দেন যে, এই খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ড. ইউনূস জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) মহাপরিচালক ড. কু দোং ইউর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য তিনটি নতুন সহায়তা প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। এই প্রকল্পগুলো হলো:
এফএও মহাপরিচালক বাংলাদেশের “উচ্চ কর্মদক্ষ দেশ” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, তারা কারিগরি সহায়তা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে।
ড. ইউনূস রোমে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিকে সহায়তা দেওয়ার জন্য রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিরিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ইতালিতে বাংলাদেশিরা দেশটির সংস্কৃতি ও সমাজে গভীরভাবে মিশে গিয়েছেন। তারা ইতালির অর্থনীতি এবং সামাজিক জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই ধরনের আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
এই আলোচনাগুলো থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সংকটের সময়ে রেমিট্যান্স ছিল সরকারের প্রাণশক্তি, যা দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে সাহায্য করেছে।
এছাড়া, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সহায়তা বজায় রাখার গুরুত্বও বারবার উঠে এসেছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য শুধু অভিন্ন দায়িত্ব নয়, বরং আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে সমন্বয়পূর্ণ কাজের প্রতিফলন।
কৃষি ও মৎস্য খাতে নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষতার উন্নয়নে জাতিসংঘের সাহায্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি দেশের রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করবে।