সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১:৩১ পিএম, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

লিমন–বৃষ্টি নিখোঁজের দিন কী ঘটেছিল, কী করেছিল খুনি হিশাম?

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দারা বলছেন, ঘটনার সঙ্গে তাদেরই রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহর সংশ্লিষ্টতার শক্ত প্রমাণ মিলেছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৭ এপ্রিল, যখন তাদের বন্ধু ওমর হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে নিখোঁজের অভিযোগ করেন। তিনি […]

লিমন–বৃষ্টি নিখোঁজের দিন কী ঘটেছিল, কী করেছিল খুনি হিশাম?

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দারা বলছেন, ঘটনার সঙ্গে তাদেরই রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহর সংশ্লিষ্টতার শক্ত প্রমাণ মিলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৭ এপ্রিল, যখন তাদের বন্ধু ওমর হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে নিখোঁজের অভিযোগ করেন। তিনি জানান, আগের দিন সকাল থেকে বৃষ্টির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। একইভাবে লিমনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে বন্ধুদের মাধ্যমে জানা যায়, লিমনের কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ থাকলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।

তদন্তে পুলিশ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৬ এপ্রিল দুপুরে বৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবন থেকে বের হয়ে উত্তর দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, লিমনের মোবাইল ফোনের অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিন শেষে সেটি ক্যাম্পাস ছেড়ে দূরের একটি ব্রিজ এলাকা হয়ে সমুদ্রসৈকতের দিকে সরতে থাকে।

এরপর সন্দেহভাজন হিসেবে হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তদন্তকারীরা লক্ষ্য করেন, তার হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রথমে তিনি দাবি করেন এটি রান্নার সময় হয়েছে। তবে মোবাইল লোকেশন ও অন্যান্য তথ্য তার বক্তব্যের সঙ্গে মিলছিল না। পরে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি লিমন ও বৃষ্টিকে গাড়িতে তুলেছিলেন এবং নির্দিষ্ট স্থানে নামিয়ে দিয়েছেন।

পুলিশি তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে হিশামের ব্যবহৃত গাড়িটি সেইসব এলাকায় ছিল, যেখানে লিমনের ফোনের সিগন্যাল পাওয়া গেছে। এছাড়া গাড়িটি অস্বাভাবিকভাবে পরিষ্কার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে গোয়েন্দারা বিভিন্ন আলামত পান। সেখানে রক্তের দাগ, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং কিছু ব্যবহৃত উপকরণ পাওয়া যায়, যা বড় ধরনের সহিংস ঘটনার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া ডাস্টবিন ও ট্র্যাশ কম্প্যাক্টর থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ফোন রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘটনার পরদিন রাতেও হিশাম একই এলাকায় যান। এতে সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ঘটনার কয়েকদিন আগে হিশাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি চ্যাটবটের কাছে সন্দেহজনক কিছু প্রশ্ন করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল কাউকে গোপনে ফেলে দেওয়া বা নিখোঁজ সংক্রান্ত বিষয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এসব তথ্য ও আলামত একত্রে বিশ্লেষণ করে ঘটনাটির রহস্য ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে। বর্তমানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ