ফেডারেল সরকারের চলমান শাটডাউন এখন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে বড় প্রভাব ফেলেছে।স্টাফ সংকটের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউড বারব্যাঙ্ক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার সোমবার বিকেলে বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বিমানগুলোকে ছোট শহরের বিমানবন্দরের মতো স্ব-নিয়ন্ত্রিতভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণের নিয়মে পরিচালিত হতে হয়। এর ফলে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে মারাত্মক বিলম্ব ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে নিউয়ার্ক, ডেনভার, ফিনিক্স, […]
ফেডারেল সরকারের চলমান শাটডাউন এখন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশপথে বড় প্রভাব ফেলেছে।
স্টাফ সংকটের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউড বারব্যাঙ্ক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার সোমবার বিকেলে বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বিমানগুলোকে ছোট শহরের বিমানবন্দরের মতো স্ব-নিয়ন্ত্রিতভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণের নিয়মে পরিচালিত হতে হয়।
এর ফলে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে মারাত্মক বিলম্ব ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে নিউয়ার্ক, ডেনভার, ফিনিক্স, শিকাগো ও ওয়াশিংটন ডিসিতে।
ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FAA) তথ্যমতে, সোমবার রাত পর্যন্ত ১২টি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে কর্মী ঘাটতি দেখা গেছে।
বারব্যাঙ্ক ছাড়াও ফিনিক্স, ডেনভার, নিউয়ার্ক, জ্যাকসনভিল, শিকাগো ও ওয়াশিংটনের টাওয়ারগুলোতে “স্টাফিং ট্রিগার” কার্যকর হয়েছে—অর্থাৎ কর্মীসংখ্যা নিরাপদ সীমার নিচে নেমে গেছে।
বারব্যাঙ্কে এক পাইলট উড্ডয়নের অনুমতির জন্য টাওয়ারে যোগাযোগ করলে রেডিওতে উত্তর আসে—
“টাওয়ার স্টাফিংয়ের কারণে বন্ধ। ক্লিয়ারেন্স, গ্রাউন্ড, লোকাল—সব বন্ধ। অনুগ্রহ করে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ট্র্যাকনের ৮০০ নম্বরে যোগাযোগ করুন।”
পরবর্তীতে সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া TRACON (সান ডিয়েগো থেকে পরিচালিত FAA কেন্দ্র) আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণভার নেয়।
তবে অনেক ক্ষেত্রে পাইলটরাই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে উড্ডয়ন পরিচালনা করেন—যা সাধারণত ছোট বিমানবন্দরগুলোতে বা রাতের নিরিবিলি সময়ে হয়ে থাকে।
পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সোমবার নিউয়ার্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“আমাদের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এখন ভাবছেন—কীভাবে বাড়ির কিস্তি দেবেন, গাড়ির ঋণ পরিশোধ করবেন।”
তিনি জানান, শাটডাউনের কারণে নিয়ন্ত্রকরা কাজ করছেন, কিন্তু বেতন পাচ্ছেন না।
যদি আরও কর্মী অসুস্থ বা অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে “নিরাপদ প্রবাহ বজায় রাখতে ফ্লাইট কমিয়ে আনা হবে।”
ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারস অ্যাসোসিয়েশন (NATCA) জানিয়েছে, বর্তমানে ১১ হাজার নিয়ন্ত্রক সপ্তাহে ছয় দিন পর্যন্ত ১০ ঘণ্টার শিফটে কাজ করছেন—সবাই বিনা বেতনে।
শাটডাউনের ফলে Essential Air Service (EAS) প্রোগ্রামের তহবিলও রবিবারের পর শেষ হয়ে যাবে।
এই প্রোগ্রামটি ছোট ও প্রত্যন্ত শহরে আকাশপথের সংযোগ রক্ষায় সরকারি ভর্তুকি দেয়।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, “বিশেষত আলাস্কার মতো অঞ্চলে এর প্রভাব ভয়াবহ হবে, কারণ সেখানকার অনেক এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বিমান।”
বেশ কয়েকটি ছোট এয়ারলাইন আপাতত নিজেদের খরচে ফ্লাইট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তবে শাটডাউন দীর্ঘ হলে তারা সেবা স্থগিত করতে বাধ্য হতে পারে।
এক স্বাধীন নিরাপত্তা প্যানেলের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে,
“বারবার শাটডাউন ও বাজেট স্থবিরতার কারণে FAA–এর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও অবকাঠামো বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই অবস্থায় হাজারো ফ্লাইট বিলম্বিত, নতুন প্রযুক্তি স্থাপন স্থগিত, এবং নিয়ন্ত্রক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ বন্ধ হয়ে পড়েছে—যা দেশের আকাশপথের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার জন্য গুরুতর হুমকি।
শাটডাউন চলতে থাকলে বিমান চলাচল, নিরাপত্তা ও ছোট শহরের যোগাযোগব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
FAA–এর এক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের আকাশপথ দেশের জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত কখনোই অর্থায়ন বন্ধের ঝুঁকিতে থাকা উচিত নয়।”