সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১২:১৭ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২৫

শিকাগোতে ৩০০ ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের অনুমোদন ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরে ‘লাগামহীন অপরাধ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে’ ৩০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “শিকাগোর স্থানীয় প্রশাসন সহিংসতা দমন ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাধ্য হয়েছেন […]

শিকাগোতে ৩০০ ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের অনুমোদন ট্রাম্পের
ডেস্ক রিপোর্ট
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরে ‘লাগামহীন অপরাধ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে’ ৩০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “শিকাগোর স্থানীয় প্রশাসন সহিংসতা দমন ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিতে।”

এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, শিকাগোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িতে ধাক্কা দিলে এক নারীকে গুলি করা হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্যমতে, গুলিবিদ্ধ নারী নিজেই হাসপাতালে যান, তবে তার অবস্থা জানা যায়নি।

অন্যদিকে ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার ট্রাম্পের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “এটি একটি কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রচেষ্টা। ট্রাম্প প্রশাসন অঙ্গরাজ্যের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে।”

এর আগে ওরিগনের পোর্টল্যান্ড শহরে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তও আইনি জটিলতায় পড়ে স্থগিত হয়েছিল। ফেডারেল বিচারক কারিন ইমারগুট তখন বলেছিলেন, “এ ধরনের পদক্ষেপ সংবিধানবিরোধী এবং অঙ্গরাজ্যের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী।”

বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাশনাল গার্ড সাধারণত অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের অনুরোধেই মোতায়েন হয়। কিন্তু এবার কেন্দ্রীয়ভাবে সেনা পাঠানো আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

শিকাগোতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কার্যালয়ের সামনে একাধিক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যদিও ট্রাম্প প্রশাসন শহরটিকে ‘অরাজক সহিংসতার কেন্দ্র’ বলে দাবি করছে, অপরাধ পরিসংখ্যান তেমন ইঙ্গিত দিচ্ছে না। কাউন্সিল অন ক্রিমিনাল জাস্টিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শিকাগোতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। তবুও ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, শহরটিতে “আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সেনা পাঠানো ছাড়া বিকল্প নেই।”

এখন দেখার বিষয়, ফেডারেল বাহিনীর এই মোতায়েন আদালতের আইনি চ্যালেঞ্জ টিকে থাকে কি না—নাকি এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আরও এক সাংবিধানিক বিতর্কে পরিণত হয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ