ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কেন উদ্যোগ নিচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচার ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাগেরহাট সার্কিট হাউস মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে […]
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কেন উদ্যোগ নিচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচার ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাগেরহাট সার্কিট হাউস মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বন্দি বিনিময় চুক্তি থাকার পরও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দেরি হচ্ছে কেন, সেটি সরকারের কাছে জানতে হবে। তার মতে, সরকারকে নিজ দায়িত্বে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা উচিত।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় হয়েছে, সেটির বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকলে তাকে দেশে এনে সেই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে কোনো অন্যায় বিচার নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতেই বিচার হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটির রাজনীতিতে ফিরে আসার উপযুক্ত সময় হয়নি। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের শাসনামলে হত্যা, গুম ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে এবং বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, গুম হওয়া সব মানুষ এখনো ফিরে আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ অন্য কোনো পরিচয় বা কাঠামোর মাধ্যমে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হলে সেটি জাতির জন্য দুঃখজনক হবে। দলটির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অনুশোচনা ছাড়াই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করা হলে তার বিরোধিতা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে হত্যা ও সহিংসতা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব সরকারের। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যে ‘মাসল পাওয়ারের’ চর্চা চলে আসছে, তা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তার মতে, দেশের গণমাধ্যম এখনো পুরোপুরি স্বাধীন—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। সব সরকারের আমলেই গণমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীন থাকার দাবি করা হলেও তিনি তা বিশ্বাস করেননি বলে জানান। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তার অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকটের পাশাপাশি অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত বা ‘ভূতুড়ে’ বিল পাওয়ার অভিযোগ করছেন। এসব বিষয়ে কথা বলায় কেউ কেউ মন্ত্রণালয় থেকে হুমকির মুখে পড়ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত জনগণই করবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড জনগণ পর্যবেক্ষণ করবে এবং তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নির্ধারিত হবে।