রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর তার পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত লিখিতপত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান সামনে আসে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির […]
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর তার পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত লিখিতপত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান সামনে আসে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ, পদত্যাগ এবং অভিশংসন সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। এর ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “স্পীকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।” এই বিধান অনুসারেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও সংবিধানে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও জানিয়েছেন যে, সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে, সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে সংসদের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে অথবা অন্য কোনো কারণে নিজের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে তার দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার। ডেপুটি স্পিকারের পদও শূন্য থাকলে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে—
“স্পীকারের পদ শূন্য হইলে বা তিনি রাষ্ট্রপতিরূপে কার্য করিলে কিংবা অন্য কোন কারণে তিনি স্বীয় দায়িত্বপালনে অসমর্থ বলিয়া সংসদ নির্ধারণ করিলে স্পীকারের সকল দায়িত্ব ডেপুটি স্পীকার পালন করিবেন; কিংবা ডেপুটি স্পীকারের পদও শূন্য হইলে সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি-অনুযায়ী কোন সংসদ-সদস্য তাহা পালন করিবেন; এবং সংসদের কোন বৈঠকে স্পীকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পীকার কিংবা ডেপুটি স্পীকারও অনুপস্থিত থাকিলে সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি-অনুযায়ী কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের দায়িত্ব পালন করিবেন।”
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ফলে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ও দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার।