জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে […]
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এ ঘটনায় ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান।
তিনি জানান, জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে (ওভার-ইনভয়েসিং) বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগেও অনুসন্ধান চলছে।
জানা গেছে, সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেমে অনিয়ম এবং জাহিদুর রহিমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৯ এপ্রিল অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সংসদ অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার সিস্টেমটিতে বিভ্রাট দেখা দেয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করলে সাউন্ড সিস্টেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেটি মেরামত ও সংস্কার করা হয়।
সূত্র জানায়, সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এই কাজের ব্যয় ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের জাতীয় সংসদ ভবন কার্যালয়ের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’-এর সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার সাউন্ড সিস্টেমটি স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে সেটির মেরামত ও সংস্কারের কাজও তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদার পরস্পর যোগসাজশে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান। অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ