শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে যমুনার সামনে হওয়া বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। এ ঘটনায় ২৩ জন আহত হলেও কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইনকিলাব […]
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে যমুনার সামনে হওয়া বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। এ ঘটনায় ২৩ জন আহত হলেও কেউ গুলিবিদ্ধ হননি।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই এলাকা ও আশপাশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রথমদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করে এবং কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি।
তবে শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানায়, এ সময় কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পুলিশ আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও নিশ্চিত করেছে, অভিযানে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের বরাতে জানানো হয়, এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি।
সরকার পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পাশাপাশি জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয় বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার সকলের প্রতি ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরও এখন বাংলাদেশের দিকে, যেখানে ইতোমধ্যে বহু বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক অবস্থান করছেন।
সরকার মনে করে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে। এজন্য দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে সকল নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য।