পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক ছয় দফা কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষা, নাগরিকত্ব, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ এবং আগের সরকারগুলোর দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার জি ২৪ ঘণ্টার মেগা কনক্লেভে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজের সরকারের ‘টু-ডু লিস্ট’ তুলে ধরেন […]
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক ছয় দফা কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষা, নাগরিকত্ব, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ এবং আগের সরকারগুলোর দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার জি ২৪ ঘণ্টার মেগা কনক্লেভে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজের সরকারের ‘টু-ডু লিস্ট’ তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। এ সময় সীমান্ত সুরক্ষা ও নাগরিকত্ব ইস্যুতে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেব আর মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কা দেব।’
ক্ষমতায় আসার পর সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মেনে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নিরাপত্তার পর নাগরিকত্ব ইস্যুকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থাকার পেছনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দ না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ থাকত না। আমরা কেউ এত বড় বড় ভাষণ দিতে পারতাম না।
সরকারের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই বছর পর রাজ্যে বিএনএস চালু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করাও সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ বলে জানান তিনি।
নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় জমি দিতে না পারলেও বর্তমান বিজেপি সরকার নতুন বিমানবন্দরের জন্য ২ হাজার একর জমি চিহ্নিত করেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টিকেও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দু জানান, চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডর সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্র আগের সরকারের কাছে সাতটি রাস্তার জন্য জমি চেয়েছিল। তাঁর দাবি, সেই সাতটি রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জমি কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় রেল প্রকল্পের জন্য হিলি, লালগড়, গোপীবল্লভপুর, এগরা, দাঁতন, দিঘা, জলেশ্বর, করিমপুর ও তেহট্টের জমি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রায় ৫০০টি রাস্তা ও সেতু নির্মাণের জন্য জমি আটকে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই জমিও কেন্দ্রকে দিয়েছে।
শুভেন্দু আরও জানান, আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের চতুর্থ দায়িত্ব হিসেবে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, রাজ্যের ১ কোটি ৪৫ লাখ নারী অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও ২০ থেকে ৩০ লাখ নারীকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে উপকারভোগীদের তথ্য ও যোগ্যতা যাচাই করেই অনুদান দেওয়ার কথা জানান তিনি।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নিয়োগ দুর্নীতির বাইরে রাখতে রামকৃষ্ণ মিশনের আচার্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু। একইভাবে একজন সৎ আইএএস কর্মকর্তাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শীর্ষ পদে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারের পঞ্চম কাজ হিসেবে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিকীকরণের কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, রাজ্যে বিনিয়োগ ও শিল্পের সুযোগ বাড়ানো গেলে যুবকদের কর্মসংস্থান এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এরপর সরকারের ষষ্ঠ অগ্রাধিকার হিসেবে বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে হওয়া দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এ জন্য মন্ত্রিগোষ্ঠীর মাধ্যমে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।
তাঁর দাবি, ভোট ঘোষণার ছয় মাস আগে পর্যন্ত এবং সাম্প্রতিক তিন মাসে পূর্ববর্তী সরকার যেসব ক্ষতি করে গেছে, সেগুলোও খতিয়ে দেখা বর্তমান সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়বে।
সবশেষে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে এই ছয় দফা কর্মসূচির ‘সিক্সার’ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।