সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
৪:১১ অপরাহ্ন, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১০ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে কারাগারে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ

কিশোরগঞ্জে দুই যুগ আগে ডাকাতির সময় জোড়া হত্যার মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন নুর মোহাম্মদ। তবে বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নুর মোহাম্মদের পক্ষে […]

১০ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে কারাগারে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

কিশোরগঞ্জে দুই যুগ আগে ডাকাতির সময় জোড়া হত্যার মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন নুর মোহাম্মদ। তবে বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নুর মোহাম্মদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ। তিনি আদালতকে জানান, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না, বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করায় আপিলের শর্তে তার জামিন চাওয়া হয়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান জানান, বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতিও চেয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। আদালত সেই আবেদনও গ্রহণ করেননি।

ডাকাতির সময় জোড়া হত্যা

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। ডাকাতেরা দোকানের সিন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর দোকান মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

বিচার শেষে ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় দেন। নুর মোহাম্মদসহ আট আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে এক আসামির মৃত্যু হয়।

মৃত্যুদণ্ড কমে হয় ১০ বছরের সাজা

পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আসামিদের সাজায় পরিবর্তন আনেন। নুর মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, নুর মোহাম্মদ এ মামলায় হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এমনকি রায় ঘোষণার সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন।

দীর্ঘ সময় পর মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদ। তার বয়স ও অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ