যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের আর্থিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নতুন একটি বিনিয়োগ কর্মসূচি চালু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামে এই কর-সুবিধাপ্রাপ্ত বিশেষ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রতিটি যোগ্য শিশুর নামে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ডলার জমা রাখা হবে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের আর্থিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নতুন একটি বিনিয়োগ কর্মসূচি চালু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামে এই কর-সুবিধাপ্রাপ্ত বিশেষ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রতিটি যোগ্য শিশুর নামে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ডলার জমা রাখা হবে।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নতুন উদ্যোগ অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরধারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুর জন্য সরকার ১ হাজার ডলারের একটি প্রাথমিক বিনিয়োগ করবে।
এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয় ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা। সরকারের দেওয়া প্রাথমিক অর্থের পাশাপাশি বাবা-মা, অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন কিংবা নিয়োগকর্তারাও নির্ধারিত সীমার মধ্যে এই অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত অর্থ জমা দিতে পারবেন।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, জমাকৃত অর্থ কম খরচের শেয়ারবাজারভিত্তিক ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগ করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে চক্রবৃদ্ধি হারে এই বিনিয়োগের মূল্য বাড়বে বলে আশা করছে প্রশাসন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মকে আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, অল্প বয়স থেকেই বিনিয়োগের সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে তরুণদের নিজস্ব সম্পদ গড়ে তোলার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, অ্যাকাউন্টের অর্থ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরক, ভ্যানগার্ড এবং স্টেট স্ট্রিট পরিচালিত নির্বাচিত ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগ করা হবে।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
তবে কর্মসূচিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কও শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, সরকারের প্রাথমিক ১ হাজার ডলারের পাশাপাশি যেসব পরিবার নিয়মিত অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার সামর্থ্য রাখবে, তারাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে। ফলে আয়বৈষম্য আরও বাড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, পারিবারিক আর্থিক অবস্থান যাই হোক না কেন, এই কর্মসূচি শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং আর্থিক পরিকল্পনার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: হোয়াইট হাউস, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ