সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
১:১৮ অপরাহ্ন, ২৫ জুলাই ২০২৬

৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতিতে চুপ্পুর কোম্পানির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতির ঘটনায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জেএমসি বিল্ডার্সের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে এসেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের দায়ের করা একটি রিটের পর ২০২৫ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্টের একটি […]

৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতিতে চুপ্পুর কোম্পানির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতির ঘটনায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জেএমসি বিল্ডার্সের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে এসেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের দায়ের করা একটি রিটের পর ২০২৫ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তিনটি অন্তর্বর্তী নির্দেশনা ও একটি রুল জারি করেন। আদালত নির্দেশ দেন, ৫ আগস্টের আগে দায়িত্বে থাকা ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যেসব সদস্য ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত, তারা আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না। একই সঙ্গে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং জেএমসি বিল্ডার্সের কোনো শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশ অনুসারে বিষয়টি তদন্ত করে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দেয় বিএফআইইউ। দীর্ঘ সময় শুনানি না হলেও আগামী বুধবার এ প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন ব্যারিস্টার মো. আব্দুল কাউয়ুম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম খালেদ আহমেদ এবং ইসলামিক ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর পক্ষে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।

আইনজীবী শিশির মনিরের দাবি, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগ পর্যন্ত মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় জেএমসি বিল্ডার্সের নামে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, রিটের মূল উদ্দেশ্য হলো এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত উদ্যোক্তা ও বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা।

শিশির মনির আরও দাবি করেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং পরে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ উত্তোলন করে। এর মধ্যে শুধু জেএমসি বিল্ডার্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। আগামী বুধবার বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিএফআইইউর প্রতিবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ