তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা প্রথমবারের মতো গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। অডিওবুক, ন্যারেশন ও স্টোরিটেলিং বিভাগে তার লেখা বই ‘মেডিটেশন: দ্য রিফ্লেকশন অব হিজ হলিনেস দ্য দালাই লামা’–এর জন্য এই সম্মাননা পান তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বিজয়ী হিসেবে দালাই […]
তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা প্রথমবারের মতো গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। অডিওবুক, ন্যারেশন ও স্টোরিটেলিং বিভাগে তার লেখা বই ‘মেডিটেশন: দ্য রিফ্লেকশন অব হিজ হলিনেস দ্য দালাই লামা’–এর জন্য এই সম্মাননা পান তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বিজয়ী হিসেবে দালাই লামার নাম ঘোষণা করা হয়। ৯০ বছর বয়সী এই নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পুরস্কারটি গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “গভীর কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের সঙ্গে আমি এই স্বীকৃতি গ্রহণ করছি। এটি কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব ও মূল্যবোধের প্রতিফলন।”
দালাই লামা আরও বলেন, শান্তি, সহমর্মিতা, পরিবেশের প্রতি যত্ন এবং মানবজাতির ঐক্যবদ্ধ চেতনা—এই বিষয়গুলো বিশ্বের প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের কল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, এই অডিওবুক প্রযোজনায় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রুফাস ওয়েইনরাইট ও ম্যাগি রজার্স অংশ নেন। গ্র্যামি অনুষ্ঠানে দালাই লামার পক্ষে রুফাস ওয়েইনরাইট পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।
১৯৫৯ সালে চীনা বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে তিব্বতের রাজধানী লাসা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন দালাই লামা। এরপর থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। তিব্বতের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কারণে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে সম্মানিত হলেও চীন সরকার তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে বিবেচনা করে।
তিব্বতি বৌদ্ধদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দালাই লামা হলেন ১৩৯১ সালে জন্ম নেওয়া এক আধ্যাত্মিক নেতার ১৪তম পুনর্জন্ম। তার ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে চীন ও দালাই লামার অবস্থানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে।