২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নারী, শিশু, প্রবীণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে একাধিক নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা হবে বিশেষ ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’, যা সম্পূর্ণ নারী চালক ও নারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যহীন ও […]
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নারী, শিশু, প্রবীণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে একাধিক নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা হবে বিশেষ ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’, যা সম্পূর্ণ নারী চালক ও নারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শ্রমবাজার গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিক ও কর্মজীবী নারীদের প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করা হবে।
নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও সহজ করতে ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সেবায় বাস পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দায়িত্বেও থাকবেন নারীরা।
বাজেটে শিশুদের সুরক্ষা ও কল্যাণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশুশ্রম নিরসনে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জোরপূর্বক শিশুশ্রম বন্ধে বিদ্যমান আইন আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০’-এর খসড়া ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।
এদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে বয়স্কদের মাসিক ভাতা ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা ৮৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ট্রেন ভাড়ায় বিশেষ ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, নারী, শিশু, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই নতুন বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।