ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূ মিম খাতুনের (২০) স্বামী দিপু বিশ্বাসকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিম খাতুন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পুরাতন বাখরবা গ্রামের আবদুল হামিদ মোল্লার মেয়ে। আটক […]
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূ মিম খাতুনের (২০) স্বামী দিপু বিশ্বাসকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিম খাতুন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পুরাতন বাখরবা গ্রামের আবদুল হামিদ মোল্লার মেয়ে। আটক দিপু বিশ্বাস একই উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাক বিশ্বাসের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে মিম ও দিপুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১৩ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর শুরুতে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও কেরানীগঞ্জে আসার পর দিপু মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোরে মাদক সেবন করে বাসায় ফেরার পর দিপুর সঙ্গে মিমের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দিপু তাকে মারধর করেন। এতে মিম অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী মারা যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন দিপু। তিনি মিমের মরদেহ ওড়না দিয়ে জানালার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন এবং পরে এলাকাবাসীকে ডেকে এটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন।
পরে মিমকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে বাসায় ফেরার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় দিপু পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।
বাড়ির মালিক রেজাউল করিম বলেন, দিপু প্রায়ই গভীর রাতে বাসায় ফিরতেন এবং এলাকায় তার মাদক সেবনের বিষয়টি অনেকেই জানতেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর শাস্তি দাবি করেন।
নিহতের মামা আবদুস সালাম বলেন, “আমরা মিম হত্যার বিচার চাই। এমন অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।