যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১২৬ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত বৃহত্তম বাংলাদেশি মুসলিম কবরস্থান ‘স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমেট্রি’। বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি আগামী ১ জুলাই থেকে নিয়মিত দাফন কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের মুনলাইট গ্রিল […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১২৬ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত বৃহত্তম বাংলাদেশি মুসলিম কবরস্থান ‘স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমেট্রি’। বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি আগামী ১ জুলাই থেকে নিয়মিত দাফন কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের মুনলাইট গ্রিল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উপদেষ্টা, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, সাংবাদিক এবং কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কবরস্থান প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে আয়োজকরা জানান, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার ফল হিসেবে নিউইয়র্কের আপস্টেট এলাকায় ১২৬ একর জমির ওপর এই কবরস্থান গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি স্থায়ী, মর্যাদাপূর্ণ ও সুপরিকল্পিত সমাধিক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী ২০ জুন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ১ জুলাই থেকে নিয়মিত দাফন কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত দাফনের ব্যবস্থা রাখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি জাহিদ মিন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক এএসএম মাইনুদ্দিন পিন্টুসহ সংগঠনের নেতারা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রকল্পটির ধর্মীয় পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা মনজুরুল করিম।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কবরস্থান প্রকল্পটি ইতোমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার কবরের বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও প্রায় ৩০ হাজার কবরের জন্য নতুন অংশের উন্নয়ন কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে।
কবরস্থানে জানাজার স্থান, ওজুখানা, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দাফন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বজনদের দাফনের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য ও সুশৃঙ্খল সেবা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উপদেষ্টা পরিষদ, ট্রাস্টি বোর্ড, কার্যনির্বাহী কমিটি, দাতা সদস্য এবং সর্বস্তরের বাংলাদেশি কমিউনিটির সহযোগিতায় এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমেট্রি ভবিষ্যতে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান মুসলিম কবরস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।