সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
৫:৪৫ অপরাহ্ন, ৮ আগস্ট ২০২৬

৫০০ টাকা ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি, দুই সন্তান নিয়ে রেললাইনের পাশে রেহানা

দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছেন বাগেরহাটের রামপালের রেহানা খাতুন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায় দিন কাটছে তার। ঘরের মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর মর্মবেদনা। অসহায় […]

৫০০ টাকা ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি, দুই সন্তান নিয়ে রেললাইনের পাশে রেহানা
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছেন বাগেরহাটের রামপালের রেহানা খাতুন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায় দিন কাটছে তার। ঘরের মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর মর্মবেদনা। অসহায় রেহানার পাশে দাঁড়িয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে বসবাসের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেহানা আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ঘরভাড়া দিতে না পারায় একপর্যায়ে সেই আশ্রয়ও হারাতে হয় তাকে। এরপর সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

রেহানার দুর্দশা দেখে প্রতিবেশীরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের উদ্যোগে খুলনা-মোংলা রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করে দেওয়া হয়। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও আর্থিক সংকটের কারণে সেটি আর পূর্ণাঙ্গ ঘরে রূপ নেয়নি। মাথার ওপর টিন নেই, চারপাশেও নেই বেড়া। ফলে তীব্র রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সেই অনাবৃত কাঠামোর নিচে দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন তিনি দেখতে পান, রেহানার মাথায় চুল নেই। বিষয়টি জানতে চাইলে কান্নাকাটি করে রেহানা জানান, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে তিনি নিজের চুল বিক্রি করেছেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রহিম শেখ বলেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারের কাছে আবেদন করা হবে, যেন দ্রুত তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।

মহিদুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা জানান, রেহানার জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই সেখানে একটি ঘর তৈরি করা সম্ভব। এলাকার সচ্ছল মানুষ ও মানবিক ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে রেহানা ও তার সন্তানদের অন্তত একটি নিরাপদ আশ্রয় মিলবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে একটি বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। সেখানেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু টিন ও বেড়ার অভাবে ঘরটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। মাথা গোঁজার ঠাঁই তো নেই-ই, খাওয়ারও খুব কষ্ট। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করতে হয়েছিল। আমি সরকারের কাছে একটু নিরাপদে থাকার জন্য সহায়তার আকুতি জানাচ্ছি।’

অসহায় এই পরিবারটির দুর্দশার অবসান ঘটাতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি স্থায়ী ঘর বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ