ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৯৬ টন ওজনের ঐতিহাসিক হিরোসাকি দুর্গ সংস্কারের পর আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে জাপানে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৮০০ সাধারণ মানুষ দড়ি ধরে সম্মিলিতভাবে টেনে দুর্গটিকে তার মূল অবস্থানের দিকে সরিয়েছেন। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি অক্ষত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে জাপানের প্রাচীন ‘হিকিয়া’ কৌশল। এই পদ্ধতিতে কোনো স্থাপনা ভেঙে না ফেলে সেটিকে […]
ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৯৬ টন ওজনের ঐতিহাসিক হিরোসাকি দুর্গ সংস্কারের পর আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে জাপানে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৮০০ সাধারণ মানুষ দড়ি ধরে সম্মিলিতভাবে টেনে দুর্গটিকে তার মূল অবস্থানের দিকে সরিয়েছেন।
ঐতিহাসিক স্থাপনাটি অক্ষত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে জাপানের প্রাচীন ‘হিকিয়া’ কৌশল। এই পদ্ধতিতে কোনো স্থাপনা ভেঙে না ফেলে সেটিকে রোলারের ওপর বসিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো হয়।
হিরোসাকি দুর্গের প্রাচীর নিরাপদে পুনর্নির্মাণের উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে দুর্গটিকে মূল অবস্থান থেকে প্রায় ৭৮ মিটার দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সে সময় গণমানুষের অংশগ্রহণে হিকিয়া পদ্ধতির প্রয়োগ ছিল প্রথমবারের মতো। পরে ২০২৪ সালে দুর্গের ২ হাজার ১৮৫টি পাথর পুরোনো জায়গায় নিখুঁতভাবে বসিয়ে পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়।
সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার পর দুর্গটিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানায় কর্তৃপক্ষ। জাপানের আমোরি প্রশাসনিক অঞ্চলে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সরানোর কাজে ৮০ জন করে একেকটি দলে ভাগ হয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা ৩০ মিটার দীর্ঘ দড়ি ধরে টান দেন। এ সময় তারা ‘সো-রে, সো-রে’ ধ্বনি দিতে থাকেন।
হিরোসাকি সিটি পার্কস অ্যান্ড গ্রিন স্পেস বিভাগের প্রধান কেনসুকে হায়াসাকা জানান, দুই দিনে ১ হাজার ৮০০টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৮ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। অর্থাৎ নির্ধারিত আসনের তুলনায় আবেদন ছিল চার গুণেরও বেশি।
তিনি বলেন, শুধু হিরোসাকি শহর বা জাপানের বিভিন্ন এলাকা থেকেই নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা থেকেও অনেকে এই বিশেষ উদ্যোগে অংশ নিতে এসেছেন।
আগস্ট মাসের শেষ পর্যন্ত দুর্গ সরানোর কাজ চলবে। এ সময় মোট ৪ হাজার ১০০ মানুষ অংশ নিয়ে হিরোসাকি দুর্গকে প্রায় ৫ মিটার পর্যন্ত সরানোর কথা রয়েছে। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা রক্ষায় এত মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণকে বিরল সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে দুর্গটির বাকি ৭৩ মিটার পথ সরানোর কাজ চলতি বছরের শেষ দিকে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রায় চার শতাব্দীর ইতিহাস বহন করছে হিরোসাকি দুর্গ। ১৬১১ সালে নির্মিত এ দুর্গটি সুগারু রাজবংশের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ১৬২৭ সালে বজ্রপাতে দুর্গের বারুদাগারে আগুন ধরে সেটি পুড়ে যায়। পরে ১৮১০ সালে দুর্গটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।
জাপানে এখনো অক্ষত অবস্থায় থাকা ১২টি দুর্গের একটি হলো হিরোসাকি দুর্গ। প্রতি বছর চেরি ব্লসমের মৌসুমে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে প্রায় ২০ লাখ পর্যটক সেখানে ভিড় করেন।
সূত্র: উইয়ন নিউজ