সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
৪:৩৬ অপরাহ্ন, ২৯ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছাড়ালো সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট, ভয়াবহ লোডশেডিং

তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার মধ্যেই বাংলাদেশে আবারও বেড়েছে লোডশেডিং। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যুতের ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। এ সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল […]

বাংলাদেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছাড়ালো সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট, ভয়াবহ লোডশেডিং
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার মধ্যেই বাংলাদেশে আবারও বেড়েছে লোডশেডিং। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে বিদ্যুতের ঘাটতি সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। এ সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৪৬৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হয় ১২ হাজার ৯৫২ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে বিদ্যুতের ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫১৭ মেগাওয়াটে।

এর আগে বিকেল ৪টায় ১৬ হাজার ৪৪২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৩৫ মেগাওয়াট। তখন ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট। বিকেল ৩টায় ঘাটতি আরও বেড়ে ৩ হাজার ৬১২ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘাটতি কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৪২ মেগাওয়াটে।

আগের দিন শুক্রবার একই সময়ে, অর্থাৎ বিকেল ৫টায় লোডশেডিং ছিল ৯২৩ মেগাওয়াট। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার একই সময়ে তা ছিল ২ হাজার ৭৭৮ মেগাওয়াট। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল।

ছুটির দিন শনিবারেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফা লোডশেডিং হয়েছে। কোথাও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর আবার চলে গেছে, আবার কোথাও নির্ধারিত সূচির বাইরেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে গ্রাহকেরা জানিয়েছেন।

তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কোথাও কোথাও খাবার পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অনলাইনভিত্তিক কাজ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গরমে স্বাভাবিক ঘুম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও বড় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমে গেছে। গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।

একই সঙ্গে কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ সীমিত থাকায় বিকল্প উৎস থেকেও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে তৈরি হওয়া বড় ব্যবধান দ্রুত কমানো না গেলে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়লে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়তে পারে।

এদিকে পেট্রোবাংলার রাত ১০টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২ হাজার ৪৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে এসেছে ৮৪১ মিলিয়ন ঘনফুট।

বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের এই ব্যবধানের কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ