কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাব্যতা সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই মোতায়েনে সামুদ্রিক টহল বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং একটি রসদ সহায়তা জাহাজ রাখা হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এসবিএসকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠানোর জন্য সুনির্দিষ্ট […]
ছবি: সংগৃহীত
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাব্যতা সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই মোতায়েনে সামুদ্রিক টহল বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং একটি রসদ সহায়তা জাহাজ রাখা হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এসবিএসকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠানোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি লজিস্টিক সাপোর্ট জাহাজ এবং একটি Explosive Ordnance Disposal (EOD) দল থাকবে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানিয়েছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে কীভাবে বাস্তব সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কিন্তু নতুন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থাতেই সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপও একটি কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সরাসরি অংশ না নেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সামরিক মহড়ার পরিধিও কমানো হয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় থাকা পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান দিয়ে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় সাবমেরিন ও অন্যান্য জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে। EOD দলের সদস্যরা বিস্ফোরক বা মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার কাজে অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে লজিস্টিক সাপোর্ট জাহাজ সম্ভাব্য অভিযানে প্রয়োজনীয় রসদ ও অন্যান্য সহায়তা দেবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য কোন দেশগুলোর বন্দর ও ঘাঁটি ব্যবহার করা হবে, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী বিদেশে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং জাতীয় সংসদের সম্মতি প্রয়োজন। ফলে প্রস্তুতি চললেও চূড়ান্ত মোতায়েনের আগে আরও কয়েকটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ধাপ পার হতে হবে। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ও জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো সংসদীয় অনুমোদন চাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতি দেশটির নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও কূটনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: এসবিএস, আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স