ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়—এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব লিওন পানেটা। তার মতে, এই যুদ্ধ আগামী ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে গড়াতে পারে, যার নির্দিষ্ট সমাপ্তি নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না। […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়—এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব লিওন পানেটা। তার মতে, এই যুদ্ধ আগামী ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে গড়াতে পারে, যার নির্দিষ্ট সমাপ্তি নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
লিওন পানেটার মতে, ইরান যুদ্ধের বর্তমান গতিপথ তাকে ইরাক ও আফগানিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তার আশঙ্কা, কার্যকর কোনো রাজনৈতিক সমাধান না এলে এই লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে।
তিনি বলেন, যুদ্ধটি আরও অন্তত ছয় মাস গড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। আর যদি নির্দিষ্ট কোনো সমাধান ছাড়া সংঘাত চলতেই থাকে, তাহলে এটি এক ধরনের অনির্দিষ্টকালীন বা ‘চিরন্তন যুদ্ধ’-এ পরিণত হতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিকভাবে জড়িয়ে থাকার আরেকটি বড় ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছেন পানেটা। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি দীর্ঘস্থায়ী এই সামরিক অচলাবস্থায় আটকে পড়ে, তাহলে বিশ্বের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
বিশেষ করে মার্কিন সামরিক শক্তি এবং নিজেদের দেশকে কার্যকরভাবে সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতার মধ্যে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে—এমন ধারণা প্রতিপক্ষ দেশগুলোর মধ্যে তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে তৈরি অচলাবস্থা যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
পানেটা মনে করেন, হরমুজ পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বারবার দেওয়া বিজয়ের দাবির মধ্যে যে অসঙ্গতি তৈরি হচ্ছে, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের বক্তব্য ও হুমকিগুলো এখন আগের মতো প্রভাব তৈরি করছে না। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যতই কঠোর বার্তা দেন, তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না বলে মনে করছেন তিনি।
সাবেক প্রতিরক্ষা সচিবের আশঙ্কার মূল জায়গাটি হলো—যুক্তরাষ্ট্র আবারও এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার দ্রুত সামরিক সমাধান পাওয়া কঠিন। ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিলে ইরান সংঘাতও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
পানেটার এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; হরমুজ প্রণালির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—এই সংঘাতের শেষ কোথায়? সামরিক অভিযান যত দীর্ঘ হবে, ততই এর অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।
লিওন পানেটার সতর্কবার্তা সেই ঝুঁকিকেই সামনে এনেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান না এলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এমন এক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে, যার শেষ সময় নির্ধারণ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।