ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নতুন সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় ২০ বছর পর আবারও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় উঠছে তেহরানের বিষয়টি। বুধবার ভোটাভুটিতে আইএইএর পরিচালনা পর্ষদ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘অমান্যতার’ অভিযোগে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নতুন সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় ২০ বছর পর আবারও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় উঠছে তেহরানের বিষয়টি।
বুধবার ভোটাভুটিতে আইএইএর পরিচালনা পর্ষদ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ‘অমান্যতার’ অভিযোগে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবটির পক্ষে ২৩টি দেশ ভোট দিয়েছে। বিপক্ষে ভোট পড়েছে তিনটি। আটটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। রাশিয়া, চীন ও নাইজার প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেয়।
প্রস্তাবে আইএইএর মহাপরিচালককে ইরানের বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সাধারণ পরিষদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে আনা প্রস্তাবটি ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতার অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় দুই দশক পর আবারও ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিরাপত্তা পরিষদের সামনে যাওয়ার পথ তৈরি হলো।
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের সুযোগ পায়নি আইএইএ। ওই সময় দেশটির কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়।
পরবর্তী সংঘাতেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সর্বশেষ যুদ্ধের পর থেকেই আইএইএ বারবার এসব স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
তবে তেহরানকে নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকটা প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তারা তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারে।
ইরানও আইএইএর এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক চাপের কারণে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে এবং এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। তার দাবি, এর পেছনে কোনো যুক্তিসংগত ভিত্তি নেই। তিনি এএফপিকেও বলেন, এই পদক্ষেপের ফল প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত হতে পারে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের বিরোধ চলে আসছে। সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই বিরোধ আরও কূটনৈতিক উত্তেজনার দিকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।